
চানপুরে প্রায় ২ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার
আয়েশা আক্তার
কুমিল্লা শহরতলীর এলাকার পাঁচথুবি ইউনিয়নের ডুমুরিয়া চানপুরে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ৯ শতক ৩৭ সেন্ট সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জমিটি বেদখলে থাকার অভিযোগের পর সম্প্রতি সেখানে অভিযান চালিয়ে জমি পরিমাপ, সীমানা নির্ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে জমিটি নিজের কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল আলম ওরফে সামছু চেয়ারম্যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়া চানপুর এলাকায় হালিমা টেলিকমের সামনে অবস্থিত ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত বিএস ২৬৮ নম্বর দাগের ৯ শতক ৩৭ সেন্ট জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম ও তাঁর ভাই জহিরের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সম্প্রতি ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে তা বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি উপজেলা ভূমি প্রশাসনের নজরে এলে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তারের নেতৃত্বে জমিটি পরিমাপ করা হয়। পরিমাপের পর জমিটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে লাল কাপড় ও সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। এর মাধ্যমে জমিটির সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভূমি প্রশাসন।
জমির মালিকানা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম ওরফে সামছু বলেন, জমিটি আমি কিনেছি। এটি আমার জমি। আমি আইনি প্রক্রিয়ায় আগাব। কেউ আমার জায়গা নিতে পারবেন না।
এদিকে সরকারি জমি চিহ্নিত করে লাল কাপড় টাঙানোর পর সেগুলো ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, সামছুল আলম ও তাঁর ভাই জহিরের লোকজন লাল কাপড়গুলো ছিঁড়ে ফেলেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সামছুল আলম ও তাঁর ভাই জহিরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি দখল, সুদের লেনদেনের মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এ ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চান না বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
অন্যদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তার বলেন, জমিটি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত এবং বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি বেদখলে ছিল। বিষয়টি জানার পর প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জমি পরিমাপ করে সেখানে লাল কাপড় ও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ক্যাটেগরি: জাতীয়
ট্যাগ: বৃহত্তর কুমিল্লা রাজনীতি
