কালবেলা · আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা যেন মানবাধিকার দমনের অজুহাত না হয়: অ্যামনেস্টি
১৩/১০/২০২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি, গভর্নরের শাসন আরোপ এবং সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত যেন মানবাধিকার দমনের অজুহাত হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলেছে, জরুরি অবস্থার নামে ভিন্নমত দমন কিংবা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ নেই।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক বাবু রাম পান্ত বলেন, প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নির্বিচারে আটকের খবর এবং পুরো প্রদেশে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্নের ঘটনা জরুরি ব্যবস্থাগুলোর যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, জাতীয় অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোরভাবে সীমিত কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মানবাধিকারসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি নিতে পারে। তবে জরুরি ব্যবস্থা মানবাধিকার দমন, ভিন্নমত স্তব্ধ করা কিংবা ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার অবাধ অনুমতি নয়।
বাবু রাম পান্ত আরও বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন প্রদেশটিকে আরও বেশি সামরিকীকরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং বেআইনিভাবে শক্তি প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের উচিত সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সেনাসদস্যদের ব্যবহার এড়িয়ে চলা। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ড মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।
অ্যামনেস্টির এই কর্মকর্তা বলেন, এই সংকটপূর্ণ সময়ে জরুরি অবস্থার আওতায় নেওয়া সব পদক্ষেপের ওপর স্বাধীন তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জরুরি পদক্ষেপ পরিস্থিতির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে।
যেভাবে জরুরি অবস্থা জারি
১১ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সুপারিশ অনুমোদন করেন। সংবিধানের যথাক্রমে ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রাদেশিক সরকারব্যবস্থার ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসী হামলায় নজিরবিহীন মাত্রার সহিংসতাকে সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
জরুরি অবস্থা জারির ফলে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ ও সিনেট প্রদেশটির বিষয়ে আইন প্রণয়ন করতে পারবে। পাশাপাশি সমাবেশ, সংগঠন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার স্থগিত করার ক্ষমতাও পাবে কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রেসিডেন্টের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রাদেশিক পরিষদের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সংসদ প্রয়োগ করবে। একই সঙ্গে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও অ্যাডভোকেট জেনারেলের পদও শূন্য হবে। পৃথকভাবে সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদের আওতায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য প্রদেশটিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ২০১৩ সাল থেকে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ক্ষমতায় রয়েছে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দলটি সেখানে সর্বশেষ সরকার গঠন করে।
সূত্র : অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
মূল প্রতিবেদনে যান ↗