কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে মো. শরিফুল ইসলাম (১৮) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি রাজধানীর ডেল্টা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন আহত তরুণের বাবা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে পাকুন্দিয়া থানায় মামলাটি করেন তিনি। আহত শরিফুল ইসলাম উপজেলার দক্ষিণ চরটেকি এলাকার শহীদ মিয়ার (৬৫) ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন শরিফুল। পথে উপজেলার কাতার বাজার এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা দা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানোর পাশাপাশি মারধর করে। এতে তার পিঠ ও কোমরে গুরুতর জখম হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে রাজধানীর ডেল্টা হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কুড়তলা এলাকার মো. আবদুল্লাহ (২০) ও রাব্বি (২১), হিজলিয়া বাঘের বাড়ি এলাকার খলিল (২০), হিজলিয়া এলাকার রাকিব (১৯) এবং বরাটিয়া এলাকার অনিক (১৯)। তাদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আহত শরিফুলের বাবা শহীদ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
