Published on
:
2 min read
সোমনাথ মণ্ডল
তিন দশক আগের কথা। সায়েন্স সিটি–তে ডাইনোসরের নড়াচড়া দেখে বিস্মিত হয়ে যেত ছোটরা। তাঁরা প্রশ্ন করত, 'বাবা, ওটা সত্যিকারের ডাইনোসর! মা, ও কামড়াবে না তো!' এ বার সেই স্মৃতিই যেন ফিরতে চলেছে পুজোর মরশুমে। ডাইনোসর নয়, এ বার খুদেদের খেলার সঙ্গী হবে বাঁকুড়ার টেরাকোটার ঘোড়া, পূর্ব বর্ধমানের নতুনগ্রামের পেঁচা কিংবা রাজা-রানি পুতুল। রিমোটের বোতাম টিপলেই নড়াচড়া করবে বাংলার লোকশিল্পের সঙ্গে সমার্থক এই সব 'পুতুল'। দুর্গাপুজোয় শিশুদের জন্য এমনই অভিনব উদ্যোগ এভারেডি ইন্ডাস্ট্রিজ় ইন্ডিয়া লিমিটেডের।
নব্বইয়ের দশকে সায়েন্স সিটি–তে ডাইনোসরের নড়াচড়া দেখে যাদের বিস্ময়ের শেষ ছিল না, তাদের অনেকেই এখন অভিভাবক। পুজোয় ঘুরতে বেরিয়ে তাঁদের সন্তানদের হাতে এ বার উঠতেই পারে বাংলার লোকশিল্পের সামগ্রীর আদলে তৈরি আধুনিক ওই সব খেলনা। স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান কিংবা রিমোট কন্ট্রোলে চলা গাড়িতেই এখন শৈশব কাটে বহু কচিকাঁচার।
বিদেশি খেলনার চোখধাঁধানো বাজারে বাংলার লোকশিল্পকে নতুন মোড়কে পরিচিতি দেওয়ার লক্ষ্যেই ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটার ঘোড়া, পেঁচা কিংবা রাজা-রানি পুতুলকে রিমোট নিয়ন্ত্রিত খেলনার রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগী সংস্থার সিইও অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প ও হস্তশিল্পের নিজস্ব প্রাণ, ইতিহাস রয়েছে। সেই শিল্পকর্মের সঙ্গে আল্টিমা ব্যাটারির প্রযুক্তিকে যুক্ত করে আমরা সেগুলোকে সচল করে তুলছি না, বরং নতুন প্রজন্মের আরও কাছে আমাদের ঐতিহ্যকে পৌঁছে দিচ্ছি।'
এতদিন বাংলার মাটির ঘোড়া কিংবা পেঁচা মূলত পরিচিত ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী হিসেবে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এ বার দুর্গাপুজোয় কলকাতার ৯৫ পল্লি ও মুদিয়ালির পুজো মণ্ডপে দেখা মিলবে বিশেষ খেলনাগুলোর। যেগুলো চলবে ওই বিশেষ ব্র্যান্ডের ব্যাটারিতে। অবশ্য বাজারে বিক্রির জন্য তা রাখা হচ্ছে না। মণ্ডপে ঘণ্টায় ঘণ্টায় আয়োজিত বিভিন্ন খেলা ও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জিতে নেওয়া যাবে সেগুলি। সংস্থার দাবি, এই উদ্যোগের মূলে রয়েছে খেলনার আনন্দের সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যের পরিচয় ঘটানোর ভাবনা।
