আজকাল ওয়েবডেস্ক: শান্তিপুরের বামা কালীর নাচ দেখতে প্রতি বছরই ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। শুধু শান্তিপুর নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু মানুষ এই বিশেষ দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে আসেন। তবে এবছর কলকাতার চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে বামা কালীর নাচের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন বড়বাজার ঘাট চৌরাস্তার মোড়ে এই নাচের আয়োজন করা হলেও, এবার প্রায় ৫০০ মিটার দূরে বেজপাড়ার মাঠে নাচানো হবে বামা কালীর প্রতিমাকে।
বিগত কয়েক বছরে শান্তিপুরের বামা কালীর নাচ বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ফলে পুজোর সময় এই অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক ভিড় হয়। গত বছর দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগমের কারণে অল্প সময়ের জন্য নাচানো হয়েছিল প্রতিমাকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই সতর্ক উদ্যোক্তা ও প্রশাসন। কলকাতার চোরবাগানে সপ্তমীর দিন ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বামা কালীর মন্দির এবং প্রতিমা নাচানোর জন্য নির্ধারিত বেজপাড়ার মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। গোটা আয়োজন যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন জায়গায় দর্শনার্থীদের সমাগম সামাল দেওয়ার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে, বামা কালীর প্রতিমা তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৬৯ সালে প্রথম এই পুজোর ঘটপুজো শুরু হয়। পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৭০ সাল থেকে মূর্তি পুজোর প্রচলন হয়। প্রথমদিকে এই প্রতিমা যমুনা কালী নামে পরিচিত ছিল। পরে তার নাম হয় বামা কালী। উদ্যোক্তাদের দাবি, যমুনা চৌধুরী স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরই এই পুজোর সূচনা হয়েছিল।
শান্তিপুরের বামা কালীর পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হল মন্দিরের আলোকসজ্জা। বৈদ্যুতিক আলোর পরিবর্তে মোমবাতি ও হারিকেনের আলোয় দেবীকে আলোকিত করা হয়। এই বিশেষ রীতি, ঐতিহ্য এবং ভক্তির টানেই প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ বামা কালীর দর্শনে আসেন।
এবার স্থান পরিবর্তনের ফলে বামা কালীর নাচ দেখতে দর্শনার্থীদের যেতে হবে বেজপাড়ার মাঠে। ঐতিহ্য বজায় রেখেই যাতে অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকে নজর রাখছেন উদ্যোক্তা ও প্রশাসন। নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকবে কড়া নজরদারি।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc&t=3s
