বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প সম্ভাবনাময় একটি খাত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার কারণে দেশের পর্যটন খাতে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষ ও আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। পর্যটন ব্যবস্থাপনা, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পরিচালনা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ট্রাভেল ব্যবসা, কাস্টমার সার্ভিসসহ নানা বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে এ বিভাগ। ফলে দেশ-বিদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে তরুণদের জন্য খুলে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের নতুন দুয়ার। দেশের উচ্চশিক্ষায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চালু করেছে। বিস্তারিত তুলে ধরেছেন
শাহিন আলম শাওন
শিক্ষার মৌলিক দিকগুলো
পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে সফল হতে হলে পেশাদারদের বিশেষ দক্ষতা এবং জ্ঞান অর্জন করতে হয়। এক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং সেবা প্রদানে প্রতিকূলতার জটিলতা বুঝতে সাহায্য করে। উচ্চশিক্ষায় একটি সাধারণ পর্যটন ও হসপিটালিটি প্রোগ্রাম বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে যেমন গ্রাহক সেবা, আতিথেয়তা পরিচালনা, সংস্কৃতি ও আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট, বিপণন, ইভেন্ট পরিকল্পনা এবং টেকসই পর্যটনচর্চা। অনেক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য ইন্টার্নশিপ এবং মাঠ ভ্রমণের সুযোগও দেওয়া হয়। এছাড়া শিক্ষার মধ্যে ভাষার দক্ষতা, সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ
গ্রাজুয়েট প্রোগ্রাম : বর্তমানে বাংলাদেশের ২৪টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে চার বছরের স্নাতক (অনার্স) ডিগ্রি চালু রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় যে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় এই বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করছে, সেগুলো হলো : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশে আরও অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয়টি চালু রয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে সহায়তা করছে।
এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্মান (ব্যাচেলর ডিগ্রি) প্রোগ্রাম চালু করেছে।
পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম : স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি পর্যটন ও আতিথেয়তায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য উপরোক্ত স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া বিদেশে এ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
ডক্টরাল প্রোগ্রাম : যারা একাডেমিক গবেষণা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে চান তারা দেশে ও বিদেশে পর্যটন ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে পিএইচডি প্রোগ্রাম নিতে পারেন।
প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেট : বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ও সেইপসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর ও দুই বছর মেয়াদি সংক্ষিপ্ত এবং ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট প্রদান করছে।
খরচ
বাংলাদেশে পর্যটন ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে স্নাতক প্রোগ্রামের খরচ সাধারণত প্রতিবছর দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা হতে পারে, যা প্রতিষ্ঠান এবং প্রোগ্রামের ওপর নির্ভর করে। কিছু কিছিু বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রদান করে। এসব প্রোগ্রাম আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং ব্যবহারিক জ্ঞানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
