তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ‘অধিকার’ আছে, ফের দাবি ট্রাম্পের
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার তার রয়েছে। যদিও দেশটির সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিউক্স সিটিতে এক সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তা আমি জানি না। আমার মনে হয়, আইন অনুযায়ী আমি আবার নির্বাচনে দাঁড়াতে পারব না। তবে আমি শতভাগ নিশ্চিত নই।’
এরপর সংবিধানের বিধিনিষেধের কথা স্বীকার করার মতো বক্তব্য দিলেও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে আবারও দাবি করেন ট্রাম্প। ওই নির্বাচনে জো বাইডেন জয়ী হয়েছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘একটি বিষয় আলাদা। দ্বিতীয়বারের নির্বাচনে তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, কারণ আমরা তিনবার জিতেছি। তাই আমার মনে হয়, আবার নির্বাচনে লড়ার অধিকার আমার আছে।’
হাসতে হাসতে তিনি আরও বলেন, ‘তারা প্রতারণা করেছে বলেই আমার মনে হয়, আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার আমার রয়েছে।’ এ সময় উপস্থিত সমর্থকেরা করতালি দেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ট্রাম্প বারবার তুললেও তার দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওই নির্বাচনের ফলাফলও পরিবর্তিত হয়নি।
ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি তা ‘খুবই পছন্দ করবেন’।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টেক্সাসে এক সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হয়তো আমাদের আরও একটি মেয়াদ থাকা উচিত।’ সে সময় তিনি দাবি করেন, আরেক মেয়াদ পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে।
এ ছাড়া গত বছর ট্রাম্পের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির দোকানে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা টুপি বিক্রি শুরু হয়। জুলাই মাসে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারেও তাকে এমন একটি টুপি পরতে দেখা যায়।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অনেকে তার এসব বক্তব্যকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখছেন। গত বছর প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে কথা বলে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের খোঁচা দিতে পছন্দ করেন। সংবিধান সংশোধন করে ট্রাম্পের আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরির কোনো পথ তিনি দেখছেন না বলেও জানান জনসন।
তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিরোধীদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, তার বক্তব্যকে শুধু রসিকতা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে ট্রাম্পের তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পথে সাংবিধানিক বাধা রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের সমাবেশেও ট্রাম্প এ সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ওই বাক্যটি অনেক দিন ধরে পর্যালোচনা করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটি বেশ সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট। ব্যাখ্যার সুযোগ খুব বেশি নেই।’
তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সংশোধনীটির ভাষা উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেন এবং বলেন, প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে সংবিধানে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আরও বেশি আসন নিশ্চিত করতে সমর্থকদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প সমর্থকদের এমনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ব্যালটে তার নিজের নামও রয়েছে।
তবে এ কৌশল রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জনসমর্থনের হার সাম্প্রতিক সময়ে নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের পুনরাবৃত্ত বক্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি করলেও বর্তমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, তার পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
