ছবি: সংগৃহীত
-->সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনকে আগে অবহিত না করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।
একই সঙ্গে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের ন্যায়বিচার, কার্যকর আইনি সহায়তা ও কনস্যুলার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবিও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
আরও পড়ুন
বিবৃতিকে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম উইং থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ১৮ অক্টোবরের একটি চিঠি অনুযায়ী, দুই নাগরিক পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকায় তাদের সাজার তথ্য উল্লেখ ছিল না, যদিও অন্য বন্দিদের ক্ষেত্রে সাজার বিবরণ দেওয়া হয়েছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
সংস্থাটি প্রশ্ন তুলেছে, তালিকাটি পাওয়ার পর কনস্যুলেট এই দুই নাগরিকের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে কী উদ্যোগ নিয়েছিল? অন্য বন্দিদের সাজার তথ্য উল্লেখ থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে কেন ছিল না? ৩০ সেপ্টেম্বর–১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ কনসুলেট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহসহ দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষায় স্বপ্রণোদিত কোনো উদ্যোগ নিয়েছিল কিনা? না হলে কেন কোন পদক্ষেপ নেয়া হলো না? তাদের বিরুদ্ধে কী রায় দেওয়া হয়েছিল এবং কী সাজা নির্ধারিত হয়েছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না?—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এইচআরএফবি মনে করে, দুই নাগরিকের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে যোগাযোগ না করার কথা বলা হয়েছে। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে কনস্যুলেটের নিজস্ব উদ্যোগ ও দায়িত্বের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট দুই নাগরিকের মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে কনস্যুলেট কখন কী তথ্য পেয়েছিল, তাদের অধিকার সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এইচআরএফবি মনে করে, সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশি মিশনকে অবহিত না করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা দিয়ে কনস্যুলেটের নিজস্ব ভূমিকা ও দায়িত্বের প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয় না। প্রতিবেদনে দুই নাগরিকের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে যোগাযোগ না করার কথা বলা হয়েছে। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে কনস্যুলেটের নিজস্ব উদ্যোগ ও দায়িত্বের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সংগঠনটি জানায়, কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়ে রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা এবং সেই পর্যালোচনার ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছে এইচআরএফবি। পাশাপাশি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নাগরিকের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শেখ জাহাঙ্গীর/এসএন
