
সারিয়াকান্দিতে কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ৭ ইউপি সদস্যর অভিযোগ
স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগে নিজ ইউপি সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কাজী মো.মনজুরুল ইসলাম মনিম। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির মহা উৎসবের অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রকাশ করেছে ইউনিয়ন পরিষদের সাত সদস্য।
জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর (বৃহষ্পতিবার ) এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনাস্থা বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন ৭ জন ইউপি সদস্য। অনাস্থা আনয়নকারী ৭ ইউপি সদস্যরা হলেন, ২ নং ওয়ার্ডের তহিদুল ইসলাম বাদশা, ৭ নং ওয়ার্ডের ফরিদ উদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ডের আমির মন্ডল, ৩নং ওয়ার্ডে আনোয়ার, ৯ নং ওয়ার্ডের জাহিদুল ইসলাম, সংরক্ষিত (১,২,৩) ইউপি সদস্য মোছা.পারুল খাতুন এবং (৪,৫,৬) সদস্য মোছা, রুপালী খাতুন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকার পতনের ফলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পালিয়ে যায়। তখন থেকে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কাজী মনজুরুল ইসলাম মনিম প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন । দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সংরক্ষিত (৭,৮,৯) মহিলা সদস্য বিউটি আক্তারসহ ২/১ সদস্য ম্যানেজ করে তিনি দুর্নীতির মহা উৎসব চালাচ্ছে। এই দুর্নীতি চালাতে তাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করে ইউনিয়নের সচিব আবুল কালাম আজাদ। ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোনো সভা না করে, চেয়ারম্যান কাজী মো. মনজুরুল ইসলাম মমিন সকল কাজের সিদ্ধান্ত নেয় তিনি ও সচিব মিলে। সরকারের প্রদত্ত সকল প্রকার ভাতা প্রকৃত ভাতাভোগীদের না দিয়ে চেয়ারম্যান ও সচিব তাদের নিজেদের ইচ্ছেমতো তাদের পছন্দের লোকদের প্রদান করেন।
অভিযোগ সুএে আরও জানাযায়, চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ইউপি সদস্যরা স্ব-স্ব ওয়ার্ডের প্রকৃত প্রতিবন্ধী, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্কদের ভাতা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করলেও চেয়ারম্যান তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে নিজের পছন্দ মতো নামের তালিকা প্রণয়ন করেন। মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য প্রতিজন থেকে তালিকায় নাম দেওয়ার সময় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা নেন। এ ছাড়া অগভীর নলকূপের তালিকা দেওয়ার সময় প্রতিটির জন্য কয়েক হাজার টাকা করে নেন তিনি।
একাধিক ইউপি সদস্যের দেওয়া তথ্যমতে, তিনি যখন ইউপি সদস্য ছিলেন তখন তার পরিবারের দৈনিক খরচ চালাতে হিমশিম খেতো। প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই তার হাবভাবে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। এখন সে দোতলা বাড়ি নির্মান করেছে। ইউনিয়ের সচিবের সহযোগিতায় সে নিজে প্রভাব খাটান। পরিষদের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করে নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেন। অতি সম্প্রতি উন্নয়ন তহবিলের অর্থের বেশির ভাগ টাকায় তার কাছে রয়েছে।
কামালপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এজন্য জনগণ সব সময় আমাদের দিকে চেয়ে থাকে। কিন্তু বণ্টন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও স্বজনপ্রীতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। কোনো কার্ড এলে ইউপি চেয়ারম্যান তার অনুকূলে অর্ধেকের বেশি বরাদ্দ রেখে অল্প সংখ্যক আমাদের দেয়।
৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান আমাদের ইউনিয়নের সচিব আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে উন্নয়নমুলক কাজ নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকার বিনিময়ে বিলি বন্টন করে থাকে। কোন কাজে একান্ত আমাদের
সই স্বাক্ষরের দরকার হয়। ইউপি সচীবের মাধ্যমে সম্মানী ভাতা তোলার কথা বলে চেকে আগাম সই নিয়ে রাখে৷ এসব অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে করেছি। আমাদের এমপি, দুদক, স্হানীয় সরকার মন্ত্রলয়ায়, জেলা প্রশাসককেও লিখিত অভিযোগ দিবো।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কাজী মনজুরুল ইসলাম মনিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিবো। তদন্ত কমিটির রির্পোটে সত্যতা পেলে ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।
