রিয়াদ,১৪ অক্টোবর- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধের জন্য শক্ত ঘাঁটি খুঁজছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ঠিক এমন সময় তাঁর একটি বড় পরিকল্পনায় বাধা দিয়েছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের চলমান সামরিক অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু।
তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুবরাজের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ নেওয়া হলে সৌদি আরবের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ‘হারেৎজ’-এর এক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, যৌথ সামরিক সহযোগিতার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করেছিল তেল আবিব। এর ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি চুক্তির পথও সহজ হতে পারত। তবে সৌদি আরবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ফলে সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় সৌদি আরবকে যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। রিয়াদ বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়ে এসেছে, ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু যেকোনো মূল্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি আবারও দিয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েলের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটেছে, যখন তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরব হুতি বিদ্রোহীদের ঘন ঘন হামলার মুখে রয়েছে। এসব হামলায় দেশটির বিমান চলাচল খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিয়াদ কর্তৃপক্ষ শনিবার পর্যন্ত শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে অনেক এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
এস এম/ ১৪ অক্টোবর ২০২৬
