রাষ্ট্রমালিকানাধীন ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করেছে সরকার। ব্যাংক ৬টি হলো, সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নতুন প্রজ্ঞাপন দিয়ে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধন করেছে, তবে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি।
এর আগে, এসব ব্যাংকের এমডি হতে হলে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে ২ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত ছিল। এখন নিয়ম বদলে বলা হয়েছে, ডিএমডি পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলেও কেউ এমডি হতে পারবেন।
তবে আগের মতোই এমডি পদে নিয়োগ পেতে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এর আগে, গত ২৬ জুলাই জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনটি ছিল, ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক পদে মনোনয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা।’
এটি এখন সংশোধিত নীতিমালা হিসেবে অভিহিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে গত ৯ মাসে একই নীতিমালা ৩ বার বদল করেছে সরকার। এর মধ্যে গত ১৮ জানুয়ারি প্রথম, ২৬ জুলাই দ্বিতীয় ও সোমবার তৃতীয় দফায় নীতিমালা বদল করা হলো। এর আগের নীতিমালাটি জারি করা হয়েছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে।
নীতিমালা বদল করে বলা হয়, সরকার সরাসরি নিয়োগ না দিয়ে এখন থেকে এমডিদের মনোনয়ন দেবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে নিয়োগ চূড়ান্ত করবে। তবে ৬টি বিশেষায়িত ব্যাংক ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ক্ষেত্রে এমডি নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতেই থাকবে।
নীতিমালায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, চাকরির রেকর্ড ও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু চাকরির জ্যৈষ্ঠতা নয়, পেশাগত দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতাও হবে মূল্যায়নের বিষয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, এমডি পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশের পাশাপাশি প্রার্থীর গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার বিধানও রাখা হয়েছে।
