প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি,এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটিয়ে অন্য ক্ষেত্রগুলোকে উপেক্ষা করলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ (মাঠপর্যায় থেকে সংস্কার: বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রা) শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, গত কয়েক মাসে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মকর্তা, মনিটরিং কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ৬০ ঘণ্টার বেশি আলোচনা হয়েছে। তিন হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মনিটরিং কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং দেড় হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব আলোচনা ও মতামত থেকে প্রাথমিক শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যা, অগ্রাধিকার এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাওয়া গেছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলনাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ব্যবহারিক শিখন কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিখন-সময়ের বৈষম্য কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগ, প্রাক্-চাকরি প্রশিক্ষণ, পদায়ন, পেশাগত উন্নয়ন ও মূল্যায়নকে সমন্বিত করে শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের নিয়মিত পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পৃথক রাখা এবং উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে জনবলসংকট ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপ কমিয়ে বিদ্যালয় তদারকি আরও কার্যকর করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১১ ধাপের বিদ্যালয় পরিদর্শন পদ্ধতি এবং ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মনিটরিংয়ের মূল লক্ষ্য হবে শুধু প্রতিবেদন তৈরি নয়, বরং শিক্ষকদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন নিশ্চিত করা। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো শুধু ভবননির্ভর হলে চলবে না; শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা শিশুদের উপযোগী করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিশুবান্ধব শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ ও পাহাড়ি অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কনটেন্ট, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিংকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে, যাতে শিক্ষকদের কাজ সহজ হয় এবং শিক্ষার্থীদের শিখন উন্নত হয়। তিনি জানান, জাতীয় সংলাপে উঠে আসা সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিটি শিশুর প্রকৃত শিখন, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ নিশ্চিত করতে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি জানান, শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং প্রথম অর্থবছরেই এ খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তাঁরা শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে পাঠদান করতে পারেন। আগামী দুই বছরে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা, শিক্ষকস্বল্পতা দূর করা এবং তাঁদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের দলভিত্তিক আলোচনা ও পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং পাঠ্যবিষয়ের ব্যাপ্তির চেয়ে শিখনের গভীরতা ও গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী । জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন, দেখুন
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, নতুন বেতনকাঠামোর বাইরে থাকা যেসব ভাতা মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশের ভিত্তিতে দেওয়া হয়, সেগুলো পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মচারী চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত থেকে মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে প্রচলিত বিভিন্ন ভাতা পেয়ে থাকেন, পরবর্তী আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ওই ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে। নতুন পে-স্কেলের বকেয়া বেতন ক্যালকুলেটরে হিসাব করবেন যেভাবে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সম্ভাব্য বকেয়া বেতনের পরিমাণ জানতে আগ্রহী সরকারি চাকরিজীবীরা। তাঁদের হিসাব সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে একটি এইচটিএমএলভিত্তিক ক্যালকুলেটর। এতে গ্রেড ও মূল বেতনের প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা, বাড়িভাড়া ভাতার সমন্বয় এবং তিন মাসের সম্ভাব্য বকেয়ার হিসাব দেখা যায়। তবে ক্যালকুলেটরে দেওয়া সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই হিসাবের যথার্থতা যাচাই করতে ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এসআরও নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বেতন স্লিপ অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতার হারও যাচাই করতে হবে। ক্যালকুলেটরটি সরকারি বেতন নির্ধারণের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নয়। এটি কেবল সম্ভাব্য হিসাব করার সহায়ক উপকরণ। বেতনের চূড়ান্ত হিসাব আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ব্যক্তিগত তথ্য যেভাবে দেবেন ক্যালকুলেটরে নিজের নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা যাবে। এসব তথ্য তৈরি হওয়া হিসাবের বিবরণীর শুরুতে দেখানো হবে। তবে ঘরগুলো ফাঁকা রেখেও হিসাব করা যাবে। বেতনসংক্রান্ত তথ্য পূরণের নিয়ম গ্রেড: ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জুন যে গ্রেডে কর্মরত ছিলেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন: বেতন স্লিপ অনুযায়ী মূল বেতনের অঙ্ক নির্বাচন করতে হবে। তালিকায় তা না থাকলে বিকল্প ঘরে অঙ্কটি লিখতে হবে। ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে গৃহীত মূল বেতন: জুলাই মাসে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো বেতনকাঠামো অনুযায়ী যে মূল বেতন পেয়েছেন, তা উল্লেখ করতে হবে। কর্মস্থল: বাড়িভাড়া ভাতার হার নির্ধারণের জন্য কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজনে বেতন স্লিপের সঙ্গে মিলিয়ে হার সংশোধন করা যাবে। বকেয়ার মাস: প্রাথমিকভাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের হিসাব নির্ধারিত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় নির্বাচন করা যাবে। বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি: ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ না হলে সংশ্লিষ্ট টিকচিহ্নটি তুলে দিতে হবে। ঐচ্ছিক তথ্য যুক্ত করার পদ্ধতি বেতন স্লিপে উল্লেখিত বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার পরিমাণ ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে না মিললে প্রকৃত অঙ্কটি নির্দিষ্ট ঘরে দেওয়া যাবে। একইভাবে, আইবাস++ বা সরকারি গেজেট থেকে নতুন মূল বেতন জানা থাকলে সেটিও যুক্ত করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর দেওয়া অঙ্কের ভিত্তিতে হিসাব করবে। ক্যালকুলেটরে যে হিসাব পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপ এবং প্রথম পর্যায়ে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে। ক্যালকুলেটরের বর্ণনা অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে বেতনবৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশের হিসাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাসিক হিসাবের বিবরণীতে প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্য, ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়িভাড়া এবং গৃহীত মূল বেতনের ভিত্তিতে পাওয়া বাড়িভাড়ার সমন্বয় দেখানো হবে। পাশাপাশি বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধার ১০ বা ১৫ শতাংশের অঙ্কও হিসাবের মধ্যে সমন্বয় করা হবে। সতর্কতা: ক্যালকুলেটরে পাওয়া বকেয়া ও ভাতার হিসাবকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন, মূল গেজেট এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার পরই প্রকৃত পাওনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

আগুন লাগার পর মালিক তানভীরের পোষা কুকুর-বিড়ালসহ পালিয়ে যায় ১৯ কর্মী
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা, রান্নাঘরের গ্যাসের চুলায় চা বসিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে কর্মরত এক কর্মী। কিছুক্ষণ পর সেই রান্নাঘর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তেই ১০ শতক জমির ওপর নির্মিত রিসোর্টটির সবর্ত্র আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো ওই রিসোর্টে অবস্থান করা যশোরের একই পরিবারের চারজনের কোনো হদিস মেলেনি। প্রত্যক্ষদর্শী ও টুপটুপ রিসোর্টের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, আগুন লাগার পরপরই রিসোর্টটির প্রায় সব কর্মী ও কয়েকজন অতিথি দ্রুত বেরিয়ে পড়লেও বেশ কয়েকজন কক্ষে আটকা পড়েন। রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় ছিলো প্রতিষ্ঠানটির মালিকের পোষা দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল। আগুনের সূত্রপাত হলে রিসোর্টের ৪-৫ জন কর্মী প্রথমে সেই প্রাণীগুলো নিয়ে দ্রুত বাইরে চলে আসে বলে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী। টুপটুপ রিসোর্টের অদূরেই বসতঘর প্রত্যক্ষদর্শী সেই যুবকের। তিনি বলেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়ে ঘুম ভেঙে যায়, বাইরে এসে দেখি টুপটুপ জ্বলছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪-৫ জন কর্মী কুকুর ও বিড়াল নিয়ে ছোটাছুটি করছেন, যেগুলো তাদের মালিক পুষতেন বলে জানতাম। তানভীরকে (মালিক) অসংখ্যবার কুকুরসহ বিচে হাঁটতে দেখেছি। অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় টুপটুপ রিসোর্টের সেই মালিক তানভীর সুলতান মিয়াকে ১নং আসামিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে উখিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে, যার বাদী পুলিশ। তানভীরের ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদকেও আসামি করা হয়েছে এবং ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় আটক রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এক আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেপ্তারের আগে সুমন সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনিসহ রিসোর্টের ১৯ জন কর্মী সেখানে কর্মরত ছিলেন এবং আগুন লাগার পরপরই তারা প্রাণ বাঁচাতে বেরিয়ে পড়েন। এছাড়াও রিসোর্টের ৯টি কক্ষের ৬টিতে ২১ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। ২০২২ সালের জুনে উখিয়ার ইনানী মৌজায় গিয়াস উদ্দিন গং থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যে মেরিন ড্রাইভ লাগোয়া ১০ শতক জমি ক্রয় করেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা টিপু সুলতান মিয়ার ছেলে তানভীর সুলতান মিয়া। পরে বন্ধু নিয়াজ মোরশেদসহ সেই জমিতে টুপটুপ রিসোর্ট গড়ে তোলেন তিনি এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় যার ব্যবসায়িক কার্যক্রম। রিসোর্ট ব্যবসার পাশাপাশি তানভীরের রয়েছে সার্ফনেট নামে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। টুপটুপে অতিথিদের আর্কষণের জন্য পোষ্য কুকুর-বিড়ালের একটি সংগ্রহশালা বানিয়েছিলেন তিনি, যেখানে কেনি নামের ইতালিয়ান প্রজাতির ও কিয়ানা নামে আরেকটি জার্মান প্রজাতির কুকুর ছিল। এছাড়াও পার্সিয়ানসহ বিদেশি প্রজাতির কয়েকটি বিড়াল রাখা ছিল সেই সংগ্রহশালায়, পোষার পাশাপাশি তিনি প্রাণীগুলো ক্রয়-বিক্রয় করতেন বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তানভীর পলাতক রয়েছেন এছাড়াও তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, তিনতলা কাঠের ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ও অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের স্থাপনা পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ।

‘চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম’
মাদকের বিরুদ্ধে এখন আরও জোরালো ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বারবার সহযোগিতা চেয়েও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে নিজেই অভিযানে সমন্বয় ও নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে থানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে বারবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না পাওয়ায় এলাকার মানুষের চাপের মুখে তিনি এই উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার এলাকার জনগণ, আমার এলাকার ভোটারদের একটা মারাত্মক প্রেসার ছিল আমার ওপরে। এখানে হয় আমি অভিযানে সমন্বয় করে নেতৃত্ব দিতাম, অথবা এটা প্রমাণ হতো যে সেখান থেকে আমার কোনো ইন্টারেস্ট আছে। সেদিন চাঁদা তুলতে যাইনি, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেছি। অভিযানের পদ্ধতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ডেকে নির্দেশ দিয়েছেন, কারও গায়ে যেন একটা টোকাও না পড়ে। সবাইকে আইনের হাতে তুলে দিতে বলেছেন। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জ, বংশালের আংশিক ও কোতোয়ালির আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ১১টি ওয়ার্ডের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যানজট ও সার্বিক সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) এবং ডিএমপির সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারদের (ডিসি) সঙ্গে প্রতি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করেন। সেখানে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইশরাক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনের পর্যায়ে ফিরতে পারেনি বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিতে ছয় থেকে সাত মাস পর বাধ্য হয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দেশকে ভালোবাসে, জনগণকে ভালোবাসে। এই শহরকে নিরাপদ রাখার জন্য আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও দায়িত্ব পালন করেছি। এখন তো অবশ্যই আরও জোরালো ভূমিকা পালন করব। ৫ আগস্টের পর তার এলাকার তিনটি থানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, তখন তারা পুলিশের বসার ব্যবস্থা ও আসবাবপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন বলেও জানান তিনি।

‘রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিতে সময় লাগবে এক মাস’
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল। তিনি বলেন, ‘ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রিয়জনের মরদেহ বুঝে পেতে পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।’ আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে রোববার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ১০টি মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় নমুনাগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, ‘শুধু মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষা করেই পরিচয় নিশ্চিত করা হবে না। নিহতদের বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়দের নমুনার সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে দেখা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ বলেন, ‘পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো ঢাকার মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ রিমন ঘোষ আরও বলেন, ‘মরদেহগুলো থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’ রিপন জানান, তার পরিবারের চার সদস্য ইতোমধ্যে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে নমুনা দিয়েছেন। দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা শেষ করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে, স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহের অপেক্ষায় দুই দিন ধরে কক্সবাজারে রয়েছেন তার স্বামী ফয়সাল দেওয়ান। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে পরিচয় শনাক্তে প্রায় এক মাস লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা। ফয়সাল দেওয়ান বলেন, ‘আমি জানি, আমার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই না, আর কোনো স্বামীকে এভাবে তার স্ত্রীকে হারাতে হোক, আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজতে হাসপাতালে ছুটতে হোক।’

