রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের বুকস্টলগুলির উপর হামলার অভিযোগ উঠছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল নদিয়ার ফুলিয়া। রাতের অন্ধকারে কেবল স্টল ভাঙাই নয়, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলিয়া রঙ্গমঞ্চের কাছে ফুলিয়া-তাহেরপুর রোডের ধারে। সিপিএমের দাবি বিজেপি এই কাজ করেছে। যদিও শাসক দল এই অভিযোগ মানতে রাজি হয়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন সিপিএম কর্মীরা।
শহর কলকাতা থেকে শহরতলি, হাওড়া, হগলি-সহ একাধিক জেলায় সিপিএমের বইয়ের স্টলগুলির উপর হামলা চলছে। রবিবার গভীর রাতে ফুলিয়ায় এবার ওই হামলা হল! মনীষীদের ছবি, বই রাখার স্ট্যান্ড এবং কর্মীদের বসার জন্য রাখা বেঞ্চ ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি জানতে পেরেই স্থানীয় সিপিএম কর্মীরা সেখানে যায়। অভিযুক্ত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয়। আরও এক অভিযুক্ত পালিয়ে যায় ঘটনাস্থল থেকে।
ঘটনায় সিপিএমের তরফে শান্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাকড়াও করা ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ফুলিয়ার শারদ মেলায় বুকস্টল করেছিল সিপিএম। গত ১৬ অক্টোবর বুকস্টলটির উদ্বোধন হয়। তবে বুকস্টল তৈরির আগে থেকেই বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ দলীয় কর্মীদের। তাঁদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে যে জায়গায় বুকস্টল করা হত, সেখানে আগের রাতে বিজেপির কর্মীরা ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়ে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে পুরনো জায়গা থেকে প্রায় ৫০-৬০ মিটার দূরে নতুন করে বুকস্টল তৈরি করতে হয়।
সিপিএমের অভিযোগ, বুকস্টল চালু হওয়ার পরের দিনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা, মেলা কমিটির অনুমতি এবং মহকুমাশাসকের সঙ্গে কথা বলেই বুকস্টলটি চালানো হচ্ছিল বলে দাবি দলের। গভীর রাতে বুকস্টলটিতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে স্টলটি ভাঙচুর করা হয়, পরে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। সেসময় কয়েকজনের নজরে বিষয়টি এলে তাঁরা প্রতিবাদ জানান। সিপিএম কর্মীদের দাবি, ঘটনাস্থলে দু’জনকে আটক করা সম্ভব হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন পালিয়ে গেলেও অন্যজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
