২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। লক্ষ্য বড়, পরিকল্পনাও দীর্ঘমেয়াদি! কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের পরিকল্পনায় দেখা দিল অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চোটের কারণে ছিটকে গেলেন নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। অসুস্থতার কারণে নেই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নেতৃত্বের দায়িত্ব পড়েছে তাওহিদ হৃদয়ের কাঁধে।
আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শনিবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আগে ফিল্ডিং করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে টসের ফলের চেয়েও বাংলাদেশের জন্য বড় খবর ছিল দলীয় সমীকরণে শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন।
পূর্ণ মেয়াদে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসের নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার কথা ছিল এই ম্যাচ দিয়ে। আগের দিন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামা হচ্ছে না তার। ফলে অধিনায়কত্বের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে লিটনকে।
অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর হৃদয়ের জন্যও ম্যাচটি বড় পরীক্ষা। টসের সময় জানা যায়, শেষ মুহূর্তে চোটের কারণে লিটন খেলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের একাদশে উইকেটকিপার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন নুরুল হাসান সোহান।
এদিকে জ্বরের কারণে একাদশে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিং ও বোলিং-দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই অলরাউন্ডারের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিরিজে দলীয় সমন্বয় ও খেলোয়াড়দের কার্যকারিতা যাচাই করতে চায় বাংলাদেশ। সেখানে অধিনায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডারকে না পাওয়া নিঃসন্দেহে পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। পেস বিভাগে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। স্পিন আক্রমণে থাকছেন রিশাদ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন। প্রয়োজনে হাত ঘোরাতে পারেন সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানও।
ব্যাটিংয়ে ওপেনার হিসেবে রয়েছেন তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার। এরপর নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন ও নুরুল হাসান সোহানকে ঘিরে সাজানো হয়েছে ব্যাটিং লাইনআপ।
অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে দলেও রয়েছে অভিজ্ঞতার মিশেল। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বে খেলছে দলটি। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের মতো ক্রিকেটার রয়েছেন তাদের একাদশে। বোলিং আক্রমণে আছেন ব্লেসিং মুজারাবানি, ব্র্যাড ইভান্স ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজারা।
আফগানিস্তানকে নিয়ে এই ত্রিদেশীয় সিরিজ বাংলাদেশের জন্য কেবল আরেকটি প্রতিযোগিতা নয়। ২০২৭ বিশ্বকাপ সামনে রেখে দলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা, নতুন সমন্বয় পরীক্ষা করা এবং ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ এটি। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি সেই পরিকল্পনাকে কিছুটা কঠিন করে তুলেছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পথে বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথম চ্যালেঞ্জ জিম্বাবুয়ে। তবে প্রতিপক্ষের আগে নিজেদের চোট ও অসুস্থতার ধাক্কা সামলানোই হয়ে উঠেছে বড় পরীক্ষা!
বাংলাদেশের একাদশ: তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।
জিম্বাবুয়ে একাদশ: ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ব্রেন্ডন টেলর, ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ওয়েসলি মাধেভেরে, তাফাদজওয়া সিগা (উইকেটকিপার), ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামহুরি, ব্লেসিং মুজারাবানি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা।
