কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে একের এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা। চলতি সপ্তাহের দুটি বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন পর্যটক! এতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ব্যাপকভাবে বেড়েছে পর্যটকসহ সংশ্লিষ্টদের। সবার দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা জোরদার করা হোক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারে সমুদ্রসৈকতেসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও বাড়েনি নিরাপত্তাব্যবস্থা। পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও নজরদারির অভাবে ঝুঁকি নিয়েই সাগরে নামছেন পর্যটকেরা। সমপ্রতি পেচারদ্বীপ সৈকতে সাগরে নেমে চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। এর দইুদিন আগে উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। এই দুই ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় উঠেছে। একই সাথে কেন এই নিরাপত্তাহীনতা তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
টানা ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই আছে। লাইফগার্ডদের হিসাবে, সেখানে সাগরে নামছেন লাখেরও বেশি পর্যটক। অথচ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র আটজন লাইফগার্ড। অর্থাৎ প্রতি ১২ হাজার ৫০০ পর্যটকের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন লাইফগার্ড। সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সাগরে নেমে ভেসে যাওয়ার সময় ১ হাজার ২০০ পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৫ জন।
সংস্থাটি জানায়, সৈকতের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পর্যটকদের বাড়তি চাপ রয়েছে। ভিড় রয়েছে অন্যান্য পয়েন্টেও। তবে পর্যটকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মী নেই। কিছু এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও চোখে পড়ে না।
সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি পয়েন্টে দুই দলের কয়েকজন পর্যটক সাগরে গোসল করতে নেমে স্রোতে ভেসে যান। তাঁদের মধ্যে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে ও সন্ধ্যা ৬টায় নিখোঁজ বাকি দুইজনকে উদ্ধার করা হয়।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতজুড়ে লাইফগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে কার্যকর সতর্কতাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালানো নয়, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগাম নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করাও জরুরি।
