সিনেমা মুক্তির ১০ বছর পর ওটিটিতে শরিফুল রাজ ও নাজিফা তুষি অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘আইসক্রিম’। সিনেমাটি ২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। রাজ ও তুষির অভিষেক হয়েছিল এই সিনেমার মাধ্যমে। আজ থেকে সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে দেখা যাবে।
সিনেমাটি মুক্তির সময় শরিফুল রাজ অশ্রুশিক্ত হয়ে বলেছিলেন, আমি জীবনে অনেক কষ্ট করে এই পর্যায়ে এসেছি। রনি ভাইয়ের (রেদওয়ান রনি) কাছে কৃতজ্ঞ। আর রেদওয়ান রনি বলেছিলেন, গল্পের জন্যই নতুন মুখ দরকার ছিল। আমি এমন কিছু হাসি-কান্না-দুঃখ দেখাতে চেয়েছি, যেটা আগে পর্দায় কেউ দেখেনি, তাই নতুন মুখ নেওয়া। আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসই আমার অর্জন।
সিনেমার নাম ‘আইসক্রিম’ কেন? সিনেমাটির গল্পকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা এবং নির্মাতা রেদওয়ান রনির দেওয়া এ প্রশ্নের উত্তরটা সেসময় মনে ধরেছিল অনেকের। নির্মাতা বলেছিলেন, আমি একটা সম্পর্কের গল্প বলতে চেয়েছি, আর সম্পর্কটা আইসক্রিমের মতো, একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখতে হয়। তাপমাত্রা কম হলে গলে যায়, আবার বেশি হলে বরফ হয়ে যায়।
এ প্রজন্মের আলোচিত অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। ‘আইসক্রিম’ সিনেমা ছিল তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র, এমনকি মিডিয়ায় প্রথম কোনো কাজ। কোনো নাটক, বিজ্ঞাপনে কাজ না করেই সরাসরি সিনেমায় নাম লেখিয়েছিলেন তিনি। এখন সেই সময়ের কথা ভাবলে কী মনে হয়, কেমন মনে হয়? তুষি বলেন, সিনেমা যে একটা বড় ক্যানভাস, এ সবকিছু না বুঝেই-না জেনেই সিনেমার ক্যানভাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম। তখন আমি ইন্ডাস্ট্রির কিছুই জানি না, বুঝি না। আমার জাস্ট একটা ইচ্ছা ছিল যে আমি অভিনয় করতে চাই। আর তখন এফডিসির বাইরে অল্টারনেটিভ সিনেমা হচ্ছিল অনেক কম। আমার কাছে মনে হয়েছিল যে ‘আইসক্রিম’ গুড ফিল্ম এবং রেদওয়ান রনি ভালো ডিরেক্টর। ওই জায়গা থেকে আমি ছোট মানুষ, আমি ভেবেছি যে, সিনেমাটা করা যায়। ‘আইসক্রিম’ করার পর আমি অনেক কিছুই বুঝেছি। সিনেমাটা দর্শকরা আবার দেখতে পারবে, সেটা বেশ ভালো লাগার। তখনো বলেছি, সিনেমাটা সবাই দেখুন, একবার হলেও দেখুন, এখনো তাই বলছি। কিন্তু সত্যি খুব অবাক লাগে যে, কীভাবে সিনেমাটা করেছিলাম এবং তারও ১০ বছর পার হয়ে গেল।
পরিচালক রেদওয়ান রনি বলেন, ১০ বছর আগের কথা, যখন ‘আইসক্রিম’ বানিয়েছিলাম, তখন এর পেছনে ছিল কিছু তরুণের অক্লান্ত পরিশ্রম আর তরতাজা স্বপ্ন, একঝাঁক নতুন মুখ আর সীমাহীন আবেগ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের সমীকরণ বদলালেও কিছু অনুভূতি ও বাস্তবতা কখনো ফিকে হয় না। এক দশক পর যখন সিনেমাটি চরকির পর্দায় নতুন করে আসছে, তখনো মনে হচ্ছেÑ সিনেমার বিষয়বস্তু খুবই প্রাসঙ্গিক, মনে হচ্ছে যেন পুরোনো সেই স্বপ্ন নতুন সাজে ফিরছে আবার। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি যারা মিস করেছিলেন তারা এখন যে কোনো দেশ থেকে বা দেশের যে কোনো জায়গা থেকে দেখতে পারবেন, এটাও অনেক আনন্দের।
শরিফুল রাজের কাছে ‘আইসক্রিম’ শুধু সিনেমা নয় বরং আজকে তার অবস্থানের ভিত বা শেকর। রাজ বলেন, ১০ বছর আগের রাজ আর আজকের রাজের মধ্যে নিশ্চয়ই কিছু পরিবর্তন আছে। কিন্তু আইসক্রিম আমার জীবনের সেই ভিত্তি যা আমাকে আজকের এই জায়গায় আসতে সাহায্য করেছে। রিহার্সেল, ক্যামেরার পেছনের সেই নার্ভাসনেস, রেদওয়ান রনি ভাইয়ের গাইডেন্স আর শুটিং সেটের মুহূর্ত এখনো জীবন্ত। ক্যারিয়ারের শুরুতে যেই প্যাশন নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, দর্শকেরা আইসক্রিম সিনেমার মাধ্যমে আমার শুরুর দিনগুলোকে দেখতে পাবেন। সত্যি অদ্ভুত অনুভূতি।
সিনেমার গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন অর্ণব, আরমিন মুসা, শারমিন সুলতানা সুমি, মিনার রহমান। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেনÑ এটিএম শামসুজ্জামান, দিতি, ওমর সানী, সায়েম সাদাত ও নাদিয়া খানম।
