Published on
:
2 min read
চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৫ জন। শনিবার রাতে দুর্ঘটনার পরেই ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে বিরোধীরা এত সহজে ছাড়তে নারাজ। গোটা ঘটনায় রাজ্য সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন তাঁরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলেই অভিযোগ বিরোধীদের একাংশের।
ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, ‘পদপিষ্টের ঘটনায় গভীর ভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার শক্তি ও সাহস দিন মাদুর্গা।’
অন্য দিকে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। কিছুটা কটাক্ষের সুরে তিনি লিখেছেন, ‘জমিদারদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বাংলার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না।’ ঘটনার যথাযথ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
চোরবাগানের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নিজের ফেসবুক পোস্টে রাজ্য সরকারের উদ্দেশে একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। কুণাল লিখেছেন, ‘দায় কার? পুজো কমিটির কর্তারা কোথায়? কেন গ্রেপ্তার নয়? পুজোতে তো এই প্রথম বৃষ্টি হলো না। বাড়তি ভিড় সামলাতে কী করা হচ্ছিল?’ আগের পুজো কমিটিকে জোর করে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর।
কালীঘাট তৃণমূলের সুরেই রাজ্য সরকারকে তোপ দেগেছে সিপিএম এবং কংগ্রেসও। ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার লিখেছেন, ‘বুলডোজ়ার পাঠিয়ে প্রশাসন বইয়ের স্টল ভাঙছে। কিন্তু ভিড় নিয়ন্ত্রণে তাদের কোনও ইতিবাচক ভূমিকা দেখা গেল না।’ পুজোগুলিকে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেওয়ার পরে কী ভাবে এমন দুর্ঘটন ঘটল, সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
একই সুরে তোপ দেগেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। তাঁর দাবি, ‘মৃত ও আহতদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। না হলে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।’ ভিড় ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ তাঁর।
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকল, কলকাতা পুলিশ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ।
আহত দর্শনার্থীদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২৫ জন। দুর্ঘটনার পরেই চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মৃতদের ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর।
