বন্ধ দরজা টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে গিয়ে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং আরও ১২ জন। দলের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না আইনজীবীদের। তাঁদের ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে গেট টপকে বন্ধ যন্তর মন্তরের ভিতরে ঢুকে পড়েন সৌরভ এবং আশুতোষ। ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কয়েক জন সিজেপি সমর্থকও। আশুতোষ এবং সৌরভের পাশাপাশি তাঁদেরও আটক করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, আইনভঙ্গ করার অভিযোগে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হতে পারে।
তার পরেই সিজেপির আইনি উপদেষ্টা রত্না সিংহ এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে অভিযোগ করেন, জাফরপুর কালান থানায় আটক সৌরভদের সঙ্গে আইনজীবীদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এসএইচও সেই অনুমতি দেননি। তাঁদের ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কোন আইনে তাঁদের আটক করা হয়েছে এবং কেন তাঁদের সঙ্গে আইনজীবীর সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নই তুলেছেন রত্না। বিষয়টিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি।
সিজেপির আইনি প্রতিনিধি পুষ্প শর্মা জানিয়েছেন, আটক হওয়ার পরেও ফোনে, হোয়াট্সঅ্যাপে সৌরভের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘সৌরভের সঙ্গে যখন শেষ বার কথা হয়, তখন বলেছিলেন, ওরা ওঁর ফোন কেড়ে নিচ্ছে। তার পর থেকে ওঁর সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পারিনি। ওঁদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে এসএইচও-কে বারবার অনুরোধ করেছি। এ-ও জানিয়েছি যে, আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার রয়েছে ওঁদের। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে, ওঁরা সুরক্ষিত জায়গায় রয়েছেন। কিছু আলোচনা করতে হলে ফোন করতে পারব।’’
সোমবারই যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা দিয়েছে ওই মন্ত্রকেরই অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরের বদলে রাজধানীর তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ, পূর্ব দিল্লির সিবিডি। এ বার থেকে ওই তিন জায়গায় কর্মসূচি পালন করা যাবে। তার পরের দিন বন্ধ গেট টপকে সেখানে ঢুকে আটক হন সিজেপি নেতারা।
ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে অবস্থানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। এই কর্মসূচির আগেই দিল্লিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আন্দোলনকারীরা যাতে জমায়েতে যোগ দিতে না-পারেন, তার জন্য দিল্লিমুখী ২৪০টি ট্রেন বাতিল করা হয়। বন্ধ করা হয় দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। শনিবার আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয়নি পুলিশ। যেখানে জমায়েতের চেষ্টা হয়েছে, সেখানেই চলেছে পুলিশি ধরপাকড়।
সোমবার অমিত শাহের মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ জানিয়ে দেয়, যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা যাবে না। ১১ অক্টোবর, রবিবার দিল্লি পুলিশের তরফে এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়। যদিও তা প্রকাশ্যে এসেছে সোমবার। যন্তর মন্তরের কাছে রয়েছে বেশ কিছু সরকারি দফতর। মনে করা হচ্ছে, তার আশপাশে যাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি না হয়, তাই এই পদক্ষেপ।
ঘটনাচক্রে, সোমবারই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য অনুমতি চেয়ে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান সৌরভ, আশুতোষেরা। পুলিশের তরফে অনুমতি না-দেওয়া হলে ফের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিজেপি নেতৃত্ব। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ হওয়ার পরেই সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান অভিজীত দিপকে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ করতে দেবে না ওরা। এটা এখন আর প্রতিবাদস্থল নয়। ভিতু একনায়কের কারণে তা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হবে।’’ তার পরের দিনই বন্ধ যন্তর মন্তরে ঢুকে আটক হন সিজেপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ এবং আশুতোষ।
