ববিতা বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে একজন চলচ্চিত্রাভিনেত্রী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয় করে যেতে চাই। এখনো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ আছে আমার।
প্রায় এক যুগ ধরে নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় করছেন না ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ববিতা। এ সময়ে বেশ কয়েকজন নির্মাতা তাকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের আগ্রহ দেখিয়েছেন, শুনিয়েছেন গল্পও। তবে কোনো গল্পই তার মন ছুঁতে পারেনি। এখনো অভিনয়ে ফেরার আগ্রহ রয়েছে এ অভিনেত্রীর। অপেক্ষায় আছেন একটি ভালো ও মৌলিক গল্পের, যেখানে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারবেন তিনি।
ববিতাকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ সিনেমায়। প্রায় এক যুগ আগে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমার পর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি তিনি। এ সময় অনেক নির্মাতাই তাকে গল্প শুনিয়েছেন। তবে কোনো গল্পেই অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয়নি তার। তার পরও চলচ্চিত্রে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে এ অভিনেত্রীর।
ববিতা বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে একজন চলচ্চিত্রাভিনেত্রী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয় করে যেতে চাই। এখনো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ আছে আমার। কিন্তু বিগত ১০ বছরে একটি ভালো গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাইনি। এখনো অপেক্ষায় আছি, হয়তো একদিন একটি ভালো মৌলিক গল্প আমার কাছে আসবে।’
বলিউড চলচ্চিত্রের উদাহরণ টেনে ববিতা বলেন, ‘সেখানে এখনো জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পীদের কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যায়, সিনেমা নির্মাণ হয়। গল্পের কারণেই অভিজ্ঞ শিল্পীরা সিনেমার প্রাণ হয়ে ওঠেন। তাদের পাশে তরুণ অভিনয়শিল্পীরাও অভিনয়ের সুযোগ পান। কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে তরুণদের আগ্রহ থাকে, দর্শকরাও পর্দায় এ সমন্বয় উপভোগ করেন।’
বাংলাদেশে অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে সিনেমা নির্মাণের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘আমাদের দেশেও শ্রদ্ধেয় আলমগীর ভাই, সোহেল রানা ভাইসহ অনেক অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পী রয়েছেন। তাদের নিয়ে এখনো ভালো গল্পের সিনেমা নির্মাণ করা সম্ভব। অথচ তাদের অনেকেই আমার মতো বহু বছর ধরে চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। আমরা আমাদের অভিজ্ঞ শিল্পীদের কাজে লাগাতে পারছি না।’
নিজের অভিনয়জীবনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ববিতা বলেন, ‘জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার একটু আফসোস হয়, এখনো এমন একটি ভালো মৌলিক গল্প পেলাম না, যেখানে মনপ্রাণ দিয়ে নিজেকে নিবেদন করে পরিশ্রম করে অভিনয় করতে পারব। হয়তো সে সময় আসবে, জানি না তা কবে।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ববিতা ৩০০-এর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার চালুর পর টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এছাড়া ১৯৭৬, ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৯৬ সালে শ্রেষ্ঠ প্রযোজক এবং ২০০২ ও ২০১১ সালে পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে এ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৬ সালে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা। চলতি বছর একুশে পদক ও মা পদকেও ভূষিত হয়েছেন এ অভিনেত্রী।
