আগৈলঝাড়া থানার ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে এএসআইয়ের জিডি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান। ছবি: সংগৃহীত
-->বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার ভেতরে এক নারী সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) অপমান ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এ ঘটনায় ৯ সেপ্টেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এএসআই শাহনাজ আক্তার। এর পরপরই তাকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়।
আরও পড়ুন
বিষয়টি তদন্তে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে তলব করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শাহনাজ আক্তারের জিডির বিবরণ অনুযায়ী, ওসি মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমান (৪০) ওই দিন সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে থানায় গিয়ে তাকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করেন। এ সময় তাকে রাতে ওসির কক্ষে যাওয়া এবং চাকরিতে আসা নিয়ে কটূক্তি করেন আঞ্জুমান। এতে অপমানিত ও মানসিকভাবে বিব্রত হন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন শাহনাজ।
আরও পড়ুন
আগের একটি ঘটনার কথাও এই পুলিশ কর্মকর্তা জিডিতে উল্লেখ করেন। গত মার্চে ভাইয়ের বিয়ের জন্য জরুরি ছুটির প্রয়োজন হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ছুটির ব্যবস্থা করতে থানার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ওসির অর্ডারলির (সহকারী পুলিশ সদস্য) মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে ছুটির আবেদন করেন।
ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তিনি জানতে পারেন, থানার আরেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে তার সঙ্গে ওসির অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন ওসির স্ত্রী। তবে ওই কথোপকথন তিনি নিজে শোনেননি বলে উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে তাকে সামনাসামনি অপমানজনক ভাষায় গালিগালাজ করা হলে ভবিষ্যতের প্রয়োজনে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করেন।
এ বিষয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। ফলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বক্তব্য দিতে পারেন না। তবে যা শোনা যাচ্ছে, তা সত্যি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওসির কারণে তিনি নিজেও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
এএসআই শাহনাজ আক্তার জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এটা থানার ভেতরের ঘটনা। জিডির বিষয়ে যা শুনেছেন, তা সত্যি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছেন। তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আগৈলঝাড়া থানার একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ‘শাহনাজ আক্তার থানায় জিডি করার পরপরই তড়িঘড়ি করে তাকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। এ ছাড়া এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ওই থানা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।’
কোনো ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মাসুদ খান বলেন, ‘এগুলো কে ছড়ায় বা আপনাদের কাছে কীভাবে যায়, জানি না। এটা ভুল তথ্য।’
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আগৈলঝাড়া থানার এক নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ওসির স্ত্রীর একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।’
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। তবে সেখানে কী আলোচনা হয়েছে বা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ডিআইজি কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।
সবুজ/রিফাত/
আরও পড়ুন
জয়পুরহাটে যাত্রী সেজে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের পর হত্যা!
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাথরঘাটা এলাকায় অটোভ্যান ছিনতাইয়ের পর চালক সাখাওয়াত হোসেন হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- হাবিল উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, জাকারিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বিপ্লব। তারা পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন
জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু কামাল জানান, গত ১৩ অক্টোবর পাঁচবিবি উপজেলার সূর্যাপুর চকপাড়া গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাড়ি থেকে অটোভ্যান নিয়ে বের হন। সেদিন মামলার প্রধান আসামি হাবিল শালাইপুর বাজার থেকে পাথরঘাটা যাওয়ার জন্য সাখাওয়াতের ভ্যানটি ভাড়া করেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে পাথরঘাটা সেতুর পাশে ভ্যানটি থামিয়ে সাখাওয়াতের মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ভ্যানটি নিয়ে যান। পরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আসামিরা ভ্যানটি ৪৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই পাঁচবিবি থানায় মামলা দায়ের করলে ডিবি পুলিশ নওগাঁ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত অটোভ্যান, রক্তমাখা গামছা ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো লোহার শাবল উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন
সাগর কুমার/রিফাত/
আরও পড়ুন
দুর্গাপূজায় নাশকতার আশঙ্কায় সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভৌগোলিক ও যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কোনো অপরাধী বা দুষ্কৃতকারী যেন সীমান্ত দিয়ে নাশকতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবি-এর ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন কালীতলা এলাকায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।
সেক্টর কমান্ডার আরও বলেন, সীমান্তের কোনো একটি সুনির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং পুরো সীমান্ত এলাকাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্তের দুই পারেই অপরাধীদের অপতৎপরতার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেই দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীটির প্রতিটি ইউনিট প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুন
এর আগে, তিনি কালীতলা এলাকার তিনটি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তাদের হাতে বিজিবির পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় নীলফামারী ৫৬-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
মো. রনি/এএফ
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪২৫
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
খবরের কাগজ গ্রাফিকস
-->কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় অভিযান চালিয়ে ৪২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৭৮ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ৪৫ জন, পুলিশ অ্যাক্ট ৩৪ ধারায় ২১ জন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৭ জন, কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ২৯ জন, পরোয়ানা মূলে ৭৮ জন, সাজা পরোয়ানা মূলে ১৮ জন রয়েছেন।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া মাদক মামলায় ৩৩ মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৪১ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ অভিযানে মোট ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদক বিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২২ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২ হাজার ২শত টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। এ সময় ৩০টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন
অভিযানে ২ হাজার ৪০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৭ লিটার চোলাইমদ, ৩৫ কেজি ১৪০ গ্রাম গাঁজা, ৪ বোতল হুইস্কি, ৪ বোতল স্কাফ ও ১০ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম ১, কক্সবাজার ১, কুমিল্লা ১, নোয়াখালী ১ এবং খাগড়াছড়ি থেকে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১১৬ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৭৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
জেলাভিত্তিক আটককৃত কিশোর গ্যাং সদস্যের সংখ্যা: চট্টগ্রাম ৩৯ , কক্সবাজার ১১, কুমিল্লা ১১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১৩, নোয়াখালী ১১, লক্ষ্মীপুর ৯, রাঙ্গামাটি ৬ এবং খাগড়াছড়িতে ১৬ জন।
জনস্বার্থে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিফাত/
আরও পড়ুন
কচুয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরের কচুয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে সাদিয়া (১০) ও সামিরা (৮) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর উত্তর কচুয়া ইউনিয়নের উজানী গ্রামের সিকদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদিয়া ওই গ্রামের রহিম হোসেনের মেয়ে। অন্য শিশু সামিরা চট্টগ্রাম থেকে পূজার ছুটিতে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সে বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
আরও পড়ুন
স্থানীয়রা জানান, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে শিশু দুটি বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। এ সময় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তারা বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর শিশু দুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে শিশু দুটিকে ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাদের কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফয়েজ/এএফ
