কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপির ২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের উপেক্ষা এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষককে শীর্ষ পদে রাখার অভিযোগে কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা। কমিটিতে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। তারা বলেন আমরা ত্যাগী আমরা বন্চিত হয়েছি।
শনিবার শেষ বিকেল (পাঁচটার) দিকে ‘দুঃসময়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত তৃণমূল বিএনপি’র ব্যানারে মিছিলটি বের হয়। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দলের দুঃসময়ে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার নেতা-কর্মীদের নতুন কমিটিতে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের বাদ দিয়ে স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের নিয়ে ‘পকেট কমিটি’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বক্তাদের দাবি, কুড়ি সদস্যের কমিটির পদ-পদবীর লালসায় শীর্ষ দুই পদের দায়িত্ব নিলেন দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষক যার ১২ জন সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাঁদের নেতৃত্বে রাখা হলে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা আরও কোণঠাসা হবেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।
সমাবেশ থেকে কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান করিম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, সাবেক প্রচার সম্পাদক মোজাফফর হোসেন এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক কেলে। স্থানীয় তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সরকারি চাকুরীর আচরণ বিধিমালার কোনো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে বিএনপিতে পদ-পদবীর লালসায় শীর্ষ দুই পদের দায়িত্ব নিলেন দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষক। এ কমিটি আমরা মানিনা, মানবোনা বলে হুশির করেন।
