আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান দুর্ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের তালদা এলাকা থেকে সুরজিৎ সী নামে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চোরবাগান কাণ্ডের পর তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও ভিডিয়ো ঘিরে অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার তাঁকে দাঁতন আদালতে পেশ করার কথা। একই সঙ্গে তাঁর পরিচালিত সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ‘কোর বাংলা জনগণের কণ্ঠ’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
চোরবাগান দুর্ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ভিডিয়ো, পোস্ট এবং দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগ সামনে আসতেই প্রশাসন কড়া অবস্থান নেয়। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর এই গ্রেফতারিকে সেই পদক্ষেপেরই গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতার সীমা কোথায়? মতপ্রকাশের অধিকার এবং আইনভঙ্গের অভিযোগের মধ্যে সীমারেখাই বা কী? বিশেষ করে স্থানীয় সংবাদ ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কাজ করা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে এই গ্রেফতারি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এক দিকে ভুয়ো খবর রুখতে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ, অন্য দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়েই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
দাঁতনের এই গ্রেফতারি কি অন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সতর্কবার্তা? নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত? প্রশ্ন উঠছে। তবে তদন্ত এবং আদালতের প্রক্রিয়ার দিকেই এখন নজর।
