বিশ্ব খাদ্য বাজারের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য প্রদর্শনী সিয়াল প্যারিস ২০২৬-এ নিজস্ব উদ্যোগে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠান। তবে বাংলাদেশের কোনো জাতীয় প্যাভিলিয়ন বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সমন্বিত অংশগ্রহণ ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে বাংলাদেশের পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো ও রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ভবিষ্যতে সরকারি উদ্যোগে আরও বড় পরিসরে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
১৭ থেকে ২১ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিস নর্দ ভিলপাঁত প্রদর্শনীকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় পাঁচ দিনব্যাপী এ আয়োজন। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে ছিল প্রায় ৮ হাজার প্রদর্শক, ১৩০টি দেশের অংশগ্রহণ এবং প্রায় ৪ লাখ পণ্য। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, খাদ্যনিরাপত্তা ও নতুন প্রযুক্তির নানা দিক তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আমদানিকারক, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা ও খাদ্যশিল্পের পেশাজীবীদের কাছে নিজেদের পণ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয় এ প্রদর্শনীতে।
বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠান ওয়াক গ্রুপ ও প্রাণ বাংলাদেশ এর নিজস্ব উদ্যোগে অংশগ্রহণ দেশের খাদ্যপণ্যকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে জাতীয় প্যাভিলিয়ন না থাকায় বাংলাদেশের পণ্য, উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানি সম্ভাবনাকে সমন্বিতভাবে উপস্থাপনের সুযোগ সীমিত ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী ব্যবসায়িক ফলাফল পাওয়া গেলে এ উদ্যোগের কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট হবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় জাতীয় প্যাভিলিয়ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যকে একটি সমন্বিত পরিচিতির আওতায় তুলে ধরতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, বাজারের চাহিদা বোঝা, সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। সে বিবেচনায় ভবিষ্যতে সিয়াল প্যারিসের মতো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মশলা, চা, কৃষিভিত্তিক ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের ইউরোপীয় বাজারে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বাজারে প্রবেশের জন্য পণ্যের মান, খাদ্যনিরাপত্তা, সঠিক লেবেলিং, প্যাকেজিং, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানি-সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলা জরুরি। শুধু প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ নয়, সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে পরবর্তী যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করার সক্ষমতাও রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকার, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং রপ্তানিকারকদের সমন্বিত উদ্যোগে আন্তর্জাতিক খাদ্য প্রদর্শনীতে আরও বড় পরিসরে বাংলাদেশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। সরকারি প্যাভিলিয়ন, পণ্যভিত্তিক প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক মান ও সনদসংক্রান্ত সহায়তা এবং মেলা-পরবর্তী ক্রেতা অনুসরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সিয়াল প্যারিস ২০২৬-এ বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ তাই একদিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের উদাহরণ, অন্যদিকে ভবিষ্যতে সমন্বিত জাতীয় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যকে আরও বিস্তৃতভাবে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হতে পারে।
