পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? দার্জিলিং, সিকিম বা উত্তরাখণ্ডের মনোরম পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটানোর আনন্দই আলাদা। কিন্তু সমতল থেকে হঠাৎ বেশি উচ্চতায় পৌঁছলে শরীর সব সময় নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে না।
বাতাসে অক্সিজেনের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় দেখা দিতে পারে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা। চিকিৎসার পরিভাষায় একে বলা হয় অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস বা উচ্চতাজনিত অসুস্থতা।
তাই পাহাড়ে বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে শুধু গরম পোশাক আর ক্যামেরা নয়, শরীরের সুরক্ষার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
উচ্চতায় বাড়ে অসুস্থতার ঝুঁকি
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা যত বাড়ে, বায়ুর চাপ তত কমে। ফলে প্রতি শ্বাসে শরীরে অক্সিজেন গ্রহনের পরিমাণ কমতে থাকে। বিশেষ করে প্রায় ২৫০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতায় দ্রুত পৌঁছলে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
মাথাব্যথা, খিদে কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, দুর্বলতা ও ঘুমের সমস্যা এর সাধারণ লক্ষণ। অনেকেই দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি ভেবে এই উপসর্গগুলি এড়িয়ে যান। কিন্তু বেশি উচ্চতায় পৌঁছনোর পর এমন সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আর জানেন তো, শারীরিকভাবে সুস্থ মানুষও এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।
প্রথম দিনেই বেশি ঘোরাঘুরি নয়
পাহাড়ে পৌঁছেই একের পর এক দর্শনীয় স্থান ঘুরে ফেলার পরিকল্পনা না করাই ভালো। বিশেষ করে বেশি উচ্চতার এলাকায় গেলে শরীরকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতে হবে।
প্রথম দিন বিশ্রাম নিন, হালকা হাঁটাচলা করুন এবং শরীর কেমন লাগছে, সেদিকে নজর রাখুন। উচ্চতা দ্রুত বাড়ানোর পরিবর্তে ধাপে ধাপে উপরে ওঠা এবং প্রয়োজনমতো একই উচ্চতায় কিছুটা সময় কাটানো ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। মাথাব্যথা বা বমি বমি ভাব শুরু হলে আরও উঁচুতে ওঠা বন্ধ করুন। উপসর্গ থাকা অবস্থায় বেশি উচ্চতায় ওঠা বিপজ্জনক হতে পারে।

জল, খাবার ও পোশাকে নজর
পাহাড়ে ঠান্ডা লাগলেও শরীরে জলের ঘাটতি হতে পারে। তাই নিয়মিত জল পান করুন। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন। সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খান এবং দরকার পর্যাপ্ত ঘুম। অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে গরম পোশাক, মোজা, টুপি ও প্রয়োজনীয় বৃষ্টির সরঞ্জাম সঙ্গে রাখুন। তবে মনে রাখবেন, বেশি জল পান বা গরম পোশাক পরা উচ্চতাজনিত অসুস্থতা পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে পারে না।
কোন লক্ষণে বিপদ বুঝবেন?
মাথাব্যথার সঙ্গে বমি, দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিশ্রাম নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। উপসর্গ বাড়তে থাকলে আর উপরে ওঠা চলবে না। তীব্র মাথাব্যথা, বারবার বমি, হাঁটার সময় টালমাটাল অবস্থা, বিভ্রান্তি, বিশ্রামেও শ্বাসকষ্ট বা কাশির সঙ্গে বুক থেকে অস্বাভাবিক শব্দ হলে তা গুরুতর উচ্চতাজনিত অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত কম উচ্চতায় নেমে এসে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে বা ঘুমিয়ে পড়ে সমস্যা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক।

আগে থেকেই নিন সতর্কতা
হাঁপানি, হার্টের অসুখ বা ফুসফুসের সমস্যা থাকলে বা আগে পাহাড়ে গিয়ে উচ্চতাজনিত অসুস্থতার অভিজ্ঞতা থাকলে, ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিয়মিত ওষুধ সঙ্গে রাখুন। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক উচ্চতাজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধে নির্দিষ্ট ওষুধ দিতে পারেন, তবে নিজের সিদ্ধান্তে তা খাওয়া উচিত নয়। পাহাড়ে বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে শরীরের সমস্যাকে হালকা ভাবে নেবেন না। একটু পরিকল্পনা, ধীরে ধীরে উচ্চতায় ওঠা এবং বিপদের লক্ষণ চিনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই ছুটিকে নিরাপদ রাখতে পারে।
