হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবার আচারের বয়ামে মিলল বিপুল পরিমাণ ডায়মন্ড, প্লাটিনাম, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান পাথর। কলকাতা থেকে আসা এক যাত্রীর ব্যাগে লুকানো অবস্থায় এসব অলংকার ও পাথর জব্দ করেছেন ঢাকা কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
গতকাল রবিবার অতিরিক্ত কমিশনার কামরুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত রাতে চোরাচালানের নতুন কৌশলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এক যাত্রী সঙ্গে করে বিপুল পরিমাণ ডায়মন্ড, প্লাটিনাম ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আসছিলেন।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গতকাল রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৯৬ ফ্লাইটে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এমডি জনি রহমান নামের ওই যাত্রী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নজরদারিতে ছিল ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। ইমিগ্রেশন শেষে ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তার ব্যাগ স্ক্যান করা হয়। এ সময় আচারের বয়ামের ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করেন কর্মকর্তারা।
পরে ব্যাগেজ তল্লাশি করে বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান অলংকার ও পাথর। কাস্টমসের তথ্যমতে, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ড বসানো ৩৮৯টি স্বর্ণের আংটি, ১৫১টি প্লাটিনামের আংটি, ৪৭২টি স্বর্ণের নাকফুল এবং স্বর্ণের লকেট ও চেইন। এ ছাড়া ডায়মন্ড, পোখরাজ ও রুবিসহ বিভিন্ন ধরনের ৭২০টি মূল্যবান পাথর এবং ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ড পাওয়া গেছে। জব্দ করা পণ্যের তালিকায় সাদা স্বর্ণ ও রুপার আংটিও রয়েছে। কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, এসব পণ্যের মোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম।
অলংকারের সঙ্গে থাকা প্রত্যয়নপত্রের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
বিমানবন্দরে আচারের বয়ামে লুকিয়ে এত বিপুল পরিমাণ মূল্যবান অলংকার ও পাথর আনার ঘটনায় চোরাচালানের কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব পণ্যের উৎস, প্রকৃত মালিকানা এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো দেশে আনা হচ্ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
এ ঘটনায় যাত্রী এমডি জনি রহমানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ফৌজদারি মামলা করেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম।
