একটি বই যখন শুধু বই থাকে না—দেশের নাম বহন করে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, বৈজ্ঞানিক জার্নাল ও ডিজিটাল পাঠমঞ্চে পৌঁছে যায়—তখন সেটি ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় গৌরবের গল্প হয়ে ওঠে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবিরের একক-লেখক গ্রন্থ “মিল্ক অ্যান্ড ডেইরি ফুডস: নিউট্রিশন, প্রসেসিং অ্যান্ড হেলদি এজিং” এখন ঠিক এমনই একটি গল্পের কেন্দ্রে। এই বইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও বিশ্লেষণ আন্তর্জাতিক বাজারে একটি একাডেমিক পণ্য হিসেবে প্রবেশ করেছে।
কেন এটি শুধু একটি বই নয়
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে যাওয়া এখন আর অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনেক বইয়ের মধ্যে এই বইয়ের বিশেষত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বলেন, এটি একটি বিশেষায়িত বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ, একক-লেখক একাডেমিক গ্রন্থ। এই ধরনের একটি বই তৈরি করে আন্তর্জাতিক প্রকাশকের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া আলাদা ধরনের বৌদ্ধিক শ্রম। এখানে গবেষণা, পাঠ্যবইয়ের কাঠামো, শিল্পপ্রয়োগ, পুষ্টি, জনস্বাস্থ্য এবং শিক্ষার্থীদের শেখার প্রয়োজন—সবকিছুকে একসঙ্গে ধারণ করতে হয়। এই কারণেই “মিল্ক অ্যান্ড ডেইরি ফুডস”কে শুধু ব্যক্তিগত প্রকাশনা হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত তাৎপর্যের একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়।
বিশ্বখ্যাত একাডেমিক প্রকাশকের একক-লেখক গ্রন্থ
বইটি প্রকাশ করেছে সিআরসি প্রেস, যা টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস গ্রুপের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মেডিসিনভিত্তিক প্রকাশনা ইমপ্রিন্ট। টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিসের একাডেমিক প্রকাশনার শিকড় আঠারো শতকের শেষভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত; প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে গবেষক, শিক্ষক, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বই ও জার্নাল প্রকাশ করে। এমন প্রকাশকের তালিকায় বাংলাদেশে কর্মরত একজন অধ্যাপকের পূর্ণাঙ্গ একক-লেখক ডেইরি গ্রন্থ থাকা তাই নিছক নামের পাশে একটি বই যোগ হওয়া নয়—এটি বাংলাদেশের জ্ঞান-উৎপাদন সক্ষমতার একটি আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশিওয়া লাইব্রেরিতে—এটি কেন বিশেষ
জানতে চাইলে বইয়ের লেখক জানান, জাপানের জাতীয় একাডেমিক গ্রন্থতথ্যব্যবস্থা সিআইএনআইআই বুকস-এ বইটির রেকর্ড রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে—টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশিওয়া লাইব্রেরির উন্মুক্ত সংগ্রহে বইটি সংরক্ষিত, কল নম্বর ৬৪৮.১:কো১৩। বাংলাদেশি অধ্যাপকের বই বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটির লাইব্রেরি সংগ্রহে থাকা প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ: এটি বইটিকে আন্তর্জাতিক একাডেমিক অবকাঠামোর ভেতরে স্থায়ীভাবে প্রবেশ করায়। ভবিষ্যতের কোনো শিক্ষার্থী, গবেষক বা শিক্ষক যখন ওই ক্যাটালগে বিষয়ভিত্তিক বই খুঁজবেন, বাংলাদেশের একজন লেখকের নামও তাঁদের সামনে আসবে।
উইলির রিভিউ—শিরোনামেই “প্যারাডাইম শিফট”
২০২৬ সালের ৩ মে উইলি প্রকাশিত “ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ডেইরি টেকনোলজি”-তে বইটির একটি স্বতন্ত্র বুক রিভিউ প্রকাশিত হয়। রিভিউটির শিরোনামের ভাবার্থই হলো—ডেইরি সায়েন্স ও ফাংশনাল নিউট্রিশনে একটি “প্যারাডাইম শিফট”। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই জার্নালটি “সোসাইটি অব ডেইরি টেকনোলজি”-র ফ্ল্যাগশিপ আন্তর্জাতিক জার্নাল। উইলির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী এর ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ২.৭। রিভিউটিতে বইটির বিশেষ শক্তি হিসেবে ডেইরি টেকনোলজি, মানবপুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যকে একটি সমন্বিত কাঠামোয় আনা, মিল্ক প্রসেসিংকে হেলদি এজিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা এবং গ্লোবাল ও এভিডেন্স-বেজড দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। একটি বইকে আন্তর্জাতিক পেশাগত জার্নাল নিজস্ব বুক রিভিউ বিভাগে আলোচনায় আনা—লেখক ও দেশের উভয়ের জন্যই দৃশ্যমানতার একটি শক্তিশালী স্তর।
বাংলাদেশের মিষ্টি এখন বিশ্বপাঠের অংশ
আলাপকালে লেখক জানান, এই বইয়ের সবচেয়ে হৃদয়গ্রাহী বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো—এটি পশ্চিমা ডেইরি পণ্যের আলোচনায় থেমে যায়নি। “ট্র্যাডিশনাল/ইন্ডিজেনাস ডেইরি ফুডস” নামে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায়ে দক্ষিণ এশিয়ার বহু ঐতিহ্যবাহী দুগ্ধজাত খাবারকে বিজ্ঞানভিত্তিক কাঠামোয় তুলে ধরা হয়েছে। রসগোল্লা, চমচম, ক্ষীর, গুলাবজামুন, কাঁচাগোল্লা, পেডা, বরফি, সন্দেশ, রাসমালাই, বাটারমিল্ক, লাবান ও লাচ্ছি—এসব খাবার শুধু নামের তালিকা হিসেবে নয়; পুষ্টিগুণ, প্রস্তুতপ্রণালি, গুণগত বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত আলোচনা প্রযুক্তির ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে।
বিশ্বপাঠে বাংলাদেশের স্বাদ
রসমালাইয়ের জন্য আলাদা অংশে নিউট্রিশনাল ফ্যাক্টস, ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস, ত্রুটি এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত আলোচনা রয়েছে। সন্দেশ অধ্যায়ে রয়েছে এর ধরন, পুষ্টি ও প্রস্তুতপ্রণালি। বইটির রেফারেন্স তালিকায় বাংলাদেশের সন্দেশ ও আইসক্রিম নিয়ে লেখকের আগের গবেষণাও স্থান পেয়েছে। অর্থাৎ, স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতি এখানে কেবল “এক্সোটিক” উদাহরণ নয়—গবেষণার ভাষায় নথিভুক্ত জ্ঞান।
৩২৩ পৃষ্ঠা, ১২ অধ্যায়, ২০২টি চিত্র
প্রকাশকের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী বইটির পরিসর ৩২৩ পৃষ্ঠা এবং এতে ২০২টি সাদা-কালো চিত্র রয়েছে। শুরুতে মিল্ক কম্পোজিশন, কেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি ও প্রসেসিং; এরপর ইয়োগার্ট, চিজ, ক্রিম, বাটার, ঘি, পাউডারড মিল্ক, কনডেন্সড মিল্ক ও আইসক্রিম; তারপর ঐতিহ্যবাহী দুগ্ধজাত খাদ্য; আর শেষ অধ্যায়ে জাতিসংঘের এসডিজির সঙ্গে ডেইরি সেক্টরের অবদান ও সুযোগ—এমন একটি ধারাবাহিকতা বইটিকে কেবল “কীভাবে পণ্য তৈরি হয়” ধরনের টেকনোলজি বই থেকে অনেক বিস্তৃত করেছে।
ডেইরি থেকে জনস্বাস্থ্য, হেলদি এজিং এবং এসডিজি
বইটির সাবটাইটেলেই “হেলদি এজিং”কে সামনে আনা হয়েছে। অর্থাৎ দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যকে শুধু উৎপাদন বা পুষ্টির বিচ্ছিন্ন বিষয় হিসেবে নয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে পুষ্টি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, কার্যকরী উপাদান, ফারমেন্টেড খাদ্য এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যচিন্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আবার শেষ অধ্যায়ে ডেইরি সেক্টরকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে পুষ্টি, খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষি-জীবিকা, নারী ও যুব উদ্যোক্তা, জলবায়ু এবং গ্রামীণ অর্থনীতি পরস্পর সম্পর্কিত, এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ প্রাসঙ্গিক।
এক বই, বহু শাখার পাঠক
প্রকাশক বইটিকে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের ফুড সায়েন্স, ডেইরি সায়েন্স, নিউট্রিশন, মাইক্রোবায়োলজি, মেডিকেল, ভেটেরিনারি, বায়োটেকনোলজি ও সংশ্লিষ্ট শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্য ফর্মুলেশন ও উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদেরও পাঠক হিসেবে ধরা হয়েছে। একটি বই যখন এতগুলো শাখার সেতু তৈরি করে, তখন তার সম্ভাব্য প্রভাব একটি বিভাগের সীমানা ছাড়িয়ে যায়।
বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ কী?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লেখক বলেন, একটি আন্তর্জাতিক একাডেমিক বই প্রকাশ কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক সক্ষমতার পরিচয়ও জড়িয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের একজন গবেষকের কাজ যখন স্বীকৃতি পায় এবং বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক ও পাঠকের কাছে পৌঁছে যায়, তখন সেটি দেশের গবেষণার সম্ভাবনা ও সক্ষমতাকেও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরে। এ ধরনের অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষকদের জন্যও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে যাওয়ার পথকে আরও দৃশ্যমান করে। এতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ে।
আলাপকালে লেখক জানান, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি ক্যাটালগে লেখক ও দেশের নাম থাকা ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, উদ্ধৃতি ও একাডেমিক পরিচিতির নতুন দরজা খুলতে পারে। তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু পেপার নয়—নিজের দীর্ঘ গবেষণা অভিজ্ঞতাকে একটি সুসংহত বই, টেকনিক্যাল গাইড বা রেফারেন্স ওয়ার্কে রূপ দেওয়াও আন্তর্জাতিক অবদানের পথ হতে পারে।
স্থানীয় সমস্যা থেকে বৈশ্বিক আলোচনায়
ডেইরি প্রসেসিং, খাদ্যনিরাপত্তা, ফাংশনাল ফুড, প্রোবায়োটিক, হেলদি এজিং ও এসডিজি—সবগুলোই বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু আলোচনাটি আন্তর্জাতিক পাঠকের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিক মানের ভাষা, কাঠামো ও প্রমাণে রূপ দিয়ে বাংলাদেশের সমস্যাকেই বৈশ্বিক জ্ঞানের অংশ করা হয়েছে।
প্রিন্টের বাইরে—ডিজিটাল বিশ্বেও উপস্থিতি
বইটির প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস ই-বুকসের ইনস্টিটিউশনাল প্ল্যাটফর্ম, গুগল প্লে বুকস এবং ভাইটালসোর্সের মতো ডিজিটাল চ্যানেলে ই-বুক বা ই-টেক্সট সংস্করণও তালিকাভুক্ত।
ড. হুমায়ুন কবির বলেন, একে ব্যক্তিগত অর্জন থেকে জাতীয় গৌরব বলা যায়। একটি বইয়ের আন্তর্জাতিক যাত্রা রাতারাতি তৈরি হয় না। গবেষণা অভিজ্ঞতা, ক্লাসরুমের প্রশ্ন, ল্যাবরেটরির তথ্য, দেশীয় খাদ্যের বাস্তবতা, আন্তর্জাতিক সাহিত্য এবং দীর্ঘ সময়ের লেখালেখি—সব মিলেই এমন একটি গ্রন্থ জন্ম নেয়। “মিল্ক অ্যান্ড ডেইরি ফুডস: নিউট্রিশন, প্রসেসিং অ্যান্ড হেলদি এজিং”-এর গুরুত্ব তাই শুধু এই নয় যে এটি সিআরসি প্রেস থেকে প্রকাশিত, কিংবা টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশিওয়া লাইব্রেরিতে রয়েছে, কিংবা উইলির জার্নালে এর বুক রিভিউ হয়েছে। এর বড় অর্থ হলো—বাংলাদেশে বসেও এমন জ্ঞান তৈরি করা সম্ভব, যা বিশ্বমানের প্রকাশনা ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পৌঁছে এবং নিজের সঙ্গে দেশের নামও বহন করে।
বাংলাদেশের গবেষণা সংস্কৃতির জন্য এই গল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তা হতে পারে একটিই, আমাদের স্থানীয় জ্ঞান, খাদ্য, সমস্যা ও উদ্ভাবন—সঠিক বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা পেলে বিশ্বপাঠের উপকরণ হতে পারে। আর সেই বিশ্বপাঠে যখন রসমালাই, সন্দেশ কিংবা বাংলাদেশের একজন অধ্যাপকের নাম পাশাপাশি দেখা যায়, তখন সেটি নিঃসন্দেহে পাঠকের থেমে দেখার মতো একটি গল্প।
বিশ্ববাজারে বইটির বিক্রি
বিক্রয়তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের বিক্রয় হিসাব অনুযায়ী হার্ডব্যাক ও ই-বুক মিলিয়ে বইটির প্রায় ২৩ কপি বিক্রি হয়। এছাড়া ২০২৬ সালে পাওয়া বর্তমান বিক্রয়তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট বিক্রি প্রায় ৫০ কপিতে পৌঁছেছে। বিশেষায়িত একাডেমিক গ্রন্থ হিসেবে এই বিক্রয়চিত্র বইটির আন্তর্জাতিক পাঠক-পরিসর ক্রমে বিস্তৃত হওয়ার একটি দৃশ্যমান ইঙ্গিত দেয়। ভৌগোলিক দিক থেকেও বিক্রির চিত্রটি উল্লেখযোগ্য। বইটির ক্রেতাদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি পাঠকের কাছে পৌঁছেছে। বইটির মূল্যও এর বিশেষায়িত একাডেমিক অবস্থানকে নির্দেশ করে; সংস্করণ ও বিক্রয়স্থলভেদে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা। ফলে এটি সাধারণ পাঠ্যবইয়ের চেয়ে বেশি মূল্যের একটি আন্তর্জাতিক রেফারেন্স গ্রন্থ হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশের পাঠক, গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি হওয়া বইটির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
তথ্য যাচাই: সিআরসি প্রেস/রাউটলেজ। উইলি অনলাইন লাইব্রেরি। সিআইএনআইআই বুকস। টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস।
প্রতিবেদনটি যাচাইকৃত প্রকাশক, জার্নাল ও লাইব্রেরি রেকর্ডের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
