নওগাঁর পোরশায় পূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই আন্তজেলা ডাকাত গ্রেপ্তার
- রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ / ২ জন দেখেছে

উজ্জ্বল কুমার নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশায় দুর্গাপূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, রুপার নূপুর, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই আন্তজেলা ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাতে পোরশা উপজেলার পূর্বগ্রামের বাসিন্দা বনিতা (৩০), তাঁর স্বামী স্বপন মিনজ, সন্তান শিবরাজ (১৩) ও যুবরাজ (৩) এবং সুস্মিতা মিনজ (১৯) ও তাঁদের ভাগ্নি শ্যামলী (২৪) ঢাকা থেকে বিআরটিসি বাসযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে তাঁরা পোরশা থানার ফুলতলা ব্র্যাক অফিসের সামনে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।
এ সময় রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে ফুলতলা ব্র্যাক অফিসের প্রায় ১৫০ গজ পশ্চিমে সরাইগাছী-নিতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ওবাইদুল্লাহ শাহর ব্রয়লার মুরগির খামারের পূর্ব পাশের গ্রামীণ রাস্তায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে।
এ সময় গলায় হাসুয়া ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি শাড়ির ব্যাগ, তিন আনা ওজনের একটি স্বর্ণের কানের দুল, এক জোড়া রুপার নূপুরের একটি এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত মামলা গ্রহণ, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, আসামিদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার, সাপাহার সার্কেল অরূপ রতন সরকার এবং পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তা এবং বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরে ১৮ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে সাপাহার থানার দিঘীরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দস্যু দলের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর (দিঘীপাড়া) এলাকার মৃত আলাউদ্দীনের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি নওগাঁ (মৃধাপাড়া) এলাকার মো. মহব্বতের ছেলে মো. সুমন ওরফে শাহিন (৩০)। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে দস্যুতায় ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া ও একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরবর্তী সময়ে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীরা গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করেন। গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ সাতটি এবং সুমন ওরফে শাহিনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দ্রুত অভিযানে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

