গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল মো. মাসুদের। সেই ফ্লাইট ধরতে গতকাল রাত ১০টা থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন তিনি। রাতের ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর আজ রোববার বেলা তিনটার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যেতে পারেননি।
বিকেল চারটার দিকে মো. মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘কালকে রাত থেকে অপেক্ষা করছি। ফ্লাইট ক্যানসেল হয়েছে। এরপর আজ তিনটায় আসতে বলেছে, এখনো যেতে পারিনি। জানি না কী হবে, দেখি। যেতে না পারলে বাড়ি চলে যেতে হবে।’ মাসুদ সৌদি আরবের রাজধানীতে একটি দোকানে কাজ করেন।

মাসুদের মতো একই অবস্থা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে আসা জাহিদুল ইসলামের। ৪০ বছর বয়সী জাহিদুল প্রায় দুই মাসের ছুটি কাটিয়ে এখন রিয়াদে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তিনি রিয়াদে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেন।
সৌদি এয়ারলাইনসে আজ দিবাগত রাত ১২টার ফ্লাইটে রিয়াদ যাওয়ার টিকিট ছিল জাহিদুল ইসলামের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছুটি শেষ, এখন যেতে না পারলে কী হবে, জানি না। এয়ারলাইনসে যোগাযোগ করেছি, তারা একটা মোবাইল নম্বর দিয়েছে, বাড়ি গিয়ে সেই নম্বরে কথা বলব।’
সরেজমিনে আজ বেলা দেড়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০ জনের বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। ফ্লাইট বাতিল হওয়া সৌদি আরবগামী এসব যাত্রীর অধিকাংশই বিমানবন্দরে আসার পর তাঁদের ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানতে পেরেছেন। তবে কেউ কেউ বিকল্প কোনো ফ্লাইটে গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

বিকেল পর্যন্ত বাতিল হওয়া কিছু ফ্লাইটের যাত্রীরা বিকল্প ফ্লাইটে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে দেশটির জেদ্দা ও দাম্মাম হয়ে যাচ্ছেন কিছু যাত্রী। তবে এই যাত্রীদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বেবিচক সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিকেল পর্যন্ত আটটি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি, ইউএস–বাংলার একটি, সৌদি এয়ারলাইনসের তিনটি ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইট বাতিল কিংবা স্থগিত হওয়ায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবে কিংবা সৌদি থেকে ঢাকায় আসতে পারেননি ২ হাজার ৯৫১ যাত্রী।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে রাতের ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানিয়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিতের তথ্য দিয়ে রয়টার্স আরও বলেছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেখানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। পাশাপাশি ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থাও যাচাই করতে বলা হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিল ছাড়াও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের বিজি৩৩৯ ও ৩৪০ ফ্লাইট স্থগিতের কথা গতকাল রাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর রাত তিনটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দরটি আবার চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ১১ ও ১২ অক্টোবরের ঢাকা–রিয়াদ ও রিয়াদ–ঢাকা রুটের নির্ধারিত বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ ফ্লাইট দুটি স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট দুটির সময়সূচি সম্পর্কে আগামীকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় সবাইকে অবহিত করা হবে।
