ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার একদিন পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। গত শুক্রবার প্রতিরোধমূলক আইনের ধারায় দিল্লির পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এদিন রাজধানী শহরটির সেন্ট্রাল পার্কে ‘তেরঙ্গা মিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে তাকে আটক করে পুলিশ।
এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার দিল্লির একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে ৫০ হাজার রুপি বন্ড এবং ‘শান্তি বিঘ্ন’ করবেন না- এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বদলে মুক্তি দেন। দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় এক ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে তার জামিন দেন। এর পর
অভিজিৎ সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।
২৪ ঘণ্টা মোবাইল এবং ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া তার কেমন কেটেছে? সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এর পর এক্সে অভিনেতা শাহরুখ খানের ‘বীর জারা’ সিনেমার পোস্টার শেয়ার করেছেন অভিজিৎ। ছবির কাহিনি হলো, শাহরুখ খান ২০ বছর কারাবাসের পর পাকিস্তানের জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। সিজেপি নেতা পাকিস্তানের জেলকে তার একদিনের কারাবাসের সাজার প্রসঙ্গে টেনে আনায় বিষয়টি সমাজমাধ্যমে চর্চার বিষয় হয়েছে।
ক্যাপশনে অভিজিৎ লিখেছেন, ‘ওয়াইফাই এবং ফোন ছাড়া ২৪ ঘণ্টা কাটানোর পর জেল থেকে বেরিয়ে আসতে কেমন লাগছে?’
অভিজিতের সাথে আরেক তরুণ নেত্রী নেহা বোরাকেও শুক্রবার আটক করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, তাদের ‘প্রিভেনটিভ কাস্টডি’তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার সকালে নেহাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে অভিজিৎকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ওই দিন অভিজিৎ বিমানে করে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তার অপর দুই সহযোগী আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসসহ তাকে বিমান থেকে আটক করা হয়। এর একদিন পরই আবারই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ছাড়া পেয়ে অভিজিৎ চলে যান তার গ্রামের বাড়িতে। অপরদিকে আশুতোষ ও সৌরভ যন্তরমন্তরে যান। সেখানে গিয়ে তারা ভারতের পতাকা উড়ান। এর পর তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবিতে অভিজিৎ দিল্লির সেন্ট্রাল পার্কে ‘তেরজ্ঞা মিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেখানে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৫০ বিক্ষোভকারীকে আটকও করা হয়।
ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ থালাপতির টিভিকের : জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে শনিবার চেন্নাইতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’তে ৩ অক্টোবর যোগ দেওয়ার পর সিইসিবিরোধী কোনো বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দলের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।
ভোটার তালিকায় নানা অনিয়ম এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এ ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির (টিএনসিসি) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। চেন্নাইয়ের এ কর্মসূচিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক সাতটি দলের নেতারা অংশ নেন।
