ইসলামপুরে নৌকাবাইচে অংশ নিয়ে ১ জনের মৃত্যু
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় নৌকাবাইচে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে হাসান আলী (৫৩) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের কটাপুর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হাসান আলী উপজেলার আগ্রাখালী এলাকার নদর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে কটাপুর ঘাটে একটি নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় আনন্দ তরী বনাম বিজয় এক্সপ্রেস নামে নৌকা দুটি অংশ নেয়। এরমধ্যে আনন্দ তরী নামক নৌকায় হাসান আলী নৌকার মাঝি হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এ সময় প্রতিযোগিতায় মধ্যেই হাসান আলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে নৌকায় করে ঘাটে নিয়ে আসার সময় নৌকাতেই তার মৃত্যু হয়। হাসান আলী পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।
নিয়ামত আলী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এখানে কয়েকদিন যাবৎ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা চলছিল। আজ সেটার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আমরা সবাই সেই খেলা দেখতে আসি। খেলা চলাকালে এক সময় দেখতে পারি একটি নৌকার মাঝি অসুস্থ হয়ে গেছেন এবং এক সময় মারা গেছেন। এটা খুবই কষ্টের বিষয়।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আমি শুনেছি যিনি মারা গেছে ওনার আগে থেকেই প্রেসার ছিল। প্রেসার উঠার কারণেই তিনি স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন।
আসমাউল আসিফ/নাঈম
আরও পড়ুন
বিয়ের দাওয়াত না দেওয়ায় চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ছোট বোনের বিয়ের দাওয়াত না দেওয়ার কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নাজিম উদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজিম উদ্দিন লুদরপুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নাজিম উদ্দিনের ছোট বোনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে ওই বিয়ের দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার পরিবারের সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে সেই বিয়ের দাওয়াত পৌঁছাতে নাজিম উদ্দিন চাচাতো ভাই মাসুমের বাড়িতে গেলে প্রথমে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মাসুম ও তার ভাইয়েরা মিলে নাজিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। নাজিম উদ্দিন গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিষয়ে নিহতের অপর চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ‘মাসুমদের বিয়ের দাওয়াত সময়মতো না দেওয়ার ক্ষোভ থেকেই তারা নাজিম উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’
জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নাজিম উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেওয়ান/এএফ
আরও পড়ুন
কুমিল্লায় যুবদলকর্মীকে হত্যায় জড়িত দুই সহোদর গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->কুমিল্লায় পুলিশ ফাঁড়ির সামনে যুবদল নেতা মো. আবু কাউছারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদ ও তার বড় ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।
তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে ঘাতক তৌহিদ তার আপন বড় ভাই তানজিরকে ফোন করে আরো কয়েকজনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। তৌহিদের ধারণা ছিল, ঘটনাস্থলে ভিকটিম কাউছার ও তার বন্ধু শামীম কাজ করতে গেলে তাদের বাধা দিতে পারে। তাই দুই ভাই তৌহিদ ও তানজির লোকজনসহ পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। কাউছার তার বন্ধুদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তৌহিদ ও তানজিরসহ অন্যরা কাউছারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য, গ্রেপ্তারদের মধ্যে তৌহিদকে শুক্রবার গভীর রাতে নগরীর নূরপুর এলাকা থেকে ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তৌহিদের বড় ভাই তানজিরকে একই রাতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের মাসিহাতা এলাকার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৭টি মামলা এবং তানজিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় মো. আবু কাউছার (৩৫) নামে ওই যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাকে বহনকারী অটোরিকশাচালক মো. মাছুম মিয়া।
নিহত কাউছার নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাপ্তানবাজার এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। এছাড়া তিনি দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
শনিবার বাদ জোহর কাপ্তান বাজার এলাকায় জানাজা শেষে কাউসারকে দাফন করা হয়।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আবু কাউসার হত্যার ঘটনায় তৌহিদ ও তার ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘাতক দুই সহোদরকে জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত বাকিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জহির/নাঈম
আরও পড়ুন
চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইনে প্রতারণা, গ্রেপ্তার আরও ৩
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
প্রতারণা চক্রের গ্রেপ্তার তিন সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরের ইলিশসহ বিভিন্ন পণ্য অনলাইনে বিক্রির নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সক্রিয় চক্রের আরও তিন সদস্যকে নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁদপুরের পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সিমকার্ডসহ আটটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ নিয়ে চক্রটির মোট ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সজিবুর রহমান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সুমন ভূঁইয়া, মো. সাইফুল ইসলাম মামুন ও অনিক অধিকারী। তাদের সবার বাড়ি নড়াইলের কালিয়া থানার চাঁচুড়ী ও পেড়লী ইউনিয়নে।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবির একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে। পরে গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১৬ অক্টোবর অভিযান শেষে দলটি চাঁদপুরে ফিরে আসে। শনিবার গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে সম্পাদনার মাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি তৈরি করত। এসব পেজে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, কলম, জুতা, শিশুদের খেলনা ও মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ বিক্রির পাশাপাশি অনলাইন চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে ভুয়া মন্তব্য, শর্ট রিল ও লোভনীয় অফারের বিজ্ঞাপন তৈরি করে সেগুলো বুস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।
ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চক্রের সদস্যরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহার করত। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও অডিও কলের মাধ্যমে নাহিদ, জাবেদ, হাজী আব্দুল কাদের ও রফিকুলসহ বিভিন্ন ভুয়া পরিচয়ে নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করত তারা। প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে ভুয়া ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহারের পাশাপাশি নকল ভাউচার ও ওয়েবসাইট তৈরি করা হতো। এভাবে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করত চক্রটি।
ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, এসব ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ তিনজন গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৯জন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ফয়েজ/এএফ
আরও পড়ুন
ঝিনাইদহে বড় ভাইয়ের কোদালের আঘাতে ছোট ভাই নিহত
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ভাবির সঙ্গে ঝগড়াকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের কোদালের আঘাতে সোহান মণ্ডল (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বকশি-চাঁদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বড় ভাই সুমন মণ্ডল (৩০) পলাতক রয়েছেন।
নিহত সোহান মণ্ডল ওই গ্রামের ইজাল মণ্ডলের ছেলে। অভিযুক্ত সুমন মণ্ডল তার আপন বড় ভাই।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে বিকেলে সুমন মণ্ডলের সঙ্গে সোহানের স্ত্রীর ঝগড়া হয়। এ ঘটনার জের ধরে পরে ছোট ভাই সোহানের সঙ্গে বড় ভাই সুমনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন পাশে থাকা কোদাল দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোহানের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে সুমন পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সোহানকে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত সুমন মণ্ডলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মাহফুজুর রহমান/নাঈম
