পুজোর সকাল। মনের মতো সাজগোজ করে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়া। একের পর এক মণ্ডপ, উপচে পড়া ভিড়, সঙ্গে চড়া গরম আর ঘাম। এই সবের মধ্যে সকালবেলার নিখুঁত সাজের হাল বেলা গড়াতেই বেহাল। কখনও নাকের দু’পাশ থেকে উঠে যাচ্ছে ফাউন্ডেশন, কখনও চোখের পাশে ছড়িয়ে পড়ছে কাজল। ঠোঁটের রংও ফিকে হতে হতে প্রায় উধাও!
এর জন্য প্রসাধনীকে দোষ দিয়ে অবশ্য লাভ নেই। গরমে ও ঘামে দীর্ঘক্ষণ মেকআপ অক্ষত রাখা বেশ কঠিন। তবে কয়েকটি বিষয়ে নজর দিলে সাজের স্থায়িত্ব বাড়ানো সম্ভব। মেকআপের আগে ত্বক কী ভাবে প্রস্তুত করছেন, কতটা প্রসাধনী ব্যবহার করছেন এবং সব শেষে কী ভাবে তা সেট করছেন—দীর্ঘস্থায়ী রূপটানের চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে এই কয়েকটি ধাপেই। পুজোর দিন বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে মেনে চলুন এই টিপ্স।
১। মেকআপের আগে ত্বক প্রস্তুত করুন
সরাসরি ত্বকে প্রসাধনীর পরত চাপিয়ে দেওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। আগের রাতে ব্যবহার করা রূপচর্চার উপাদানের অবশিষ্টাংশ, অতিরিক্ত তেল ও ঘাম ত্বকে জমে থাকলে, মেকআপ ঠিক ভাবে বসতে চায় না। তাই নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজ়ার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। নাকের দু’পাশ, চোখের নীচের অংশ ও থুতনির মতো জায়গাগুলিতে বিশেষ নজর দিন। তবে মুখ পরিষ্কার করার সময়ে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না। তাতে ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে।
২। বরফের ছোঁয়ায় ত্বককে দিন সতেজতা
মেকআপের আগে অল্প সময়ের জন্য ত্বকে বরফের ছোঁয়া দিতে পারেন। এতে সাময়িক ভাবে ত্বক টানটান ও সতেজ দেখাতে পারে। মেকআপের আগে এই পদ্ধতিকে অনেকেই ‘আইস থেরাপি’ বলে থাকেন। তবে বরফ সরাসরি ত্বকে দীর্ঘক্ষণ না ঘষে, নরম কাপড়ে মুড়ে অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করাই ভাল।
৩। ময়শ্চারাইজ়ার ও সানস্ক্রিন ভুললে চলবে না
মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বক শুকিয়ে গেলে ময়শ্চারাইজ়ার লাগিয়ে নিন। তবে ময়শ্চারাইজ়ার লাগিয়েই ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। ত্বককে কিছুটা সময় দিন, যাতে প্রসাধনীটি ভাল ভাবে মিশে যেতে পারে। তার পর ফাউন্ডেশন লাগান। সকালে ঠাকুর দেখতে বেরোলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেও ভুলবেন না। রোদে দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরির সময়ে ত্বকের সুরক্ষার জন্য সানস্ক্রিন জরুরি।
৪। প্রাইমার হোক পরিমিত
পুজোর সাজ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে প্রাইমারও কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে কপাল, নাক ও চোখের নীচের মতো জায়গায় অল্প পরিমাণে অয়েল-কন্ট্রোল বা ম্যাট প্রাইমার ব্যবহার করতে পারেন। তবে বেশি প্রাইমার লাগালেই যে মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হবে, এমন নয়। বরং অতিরিক্ত প্রাইমারে মেকআপ ভারী দেখাতে পারে। তাই প্রয়োজন বুঝে পরিমিত পরিমাণে প্রাইমার ব্যবহার করুন।
৫। ফাউন্ডেশন ও কনসিলার লাগান বুঝেশুনে
মেকআপের ক্ষেত্রে বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করলেই যে সাজ নিখুঁত হবে, তা নয়। বরং পাতলা করে ফাউন্ডেশনের একটি স্তর লাগিয়ে ব্রাশ অথবা স্পঞ্জের সাহায্যে ভাল ভাবে ছড়িয়ে দিন। স্পঞ্জ ব্যবহার করলে সেটিকে সামান্য জলে ভিজিয়ে অতিরিক্ত জল চিপে বের করে নিন। স্পঞ্জটি স্যাঁতসেঁতে থাকলে ফাউন্ডেশন ত্বকের সঙ্গে ভাল ভাবে মিশিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে। কনসিলার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিমাণের দিকে নজর দিন। তাতে মেকআপের পরত ভারী দেখানোর আশঙ্কা কমবে।
৬। শেষ ধাপে সেটিং স্প্রে
মেকআপ সম্পূর্ণ হলে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। মুখের যে অংশগুলিতে মেকআপ সরে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি, সেখানে অল্প পাউডার ব্যবহার করাও কাজে আসতে পারে। তার পর গোটা মুখে সেটিং স্প্রে ছড়িয়ে দিন। স্প্রে করার সময়ে বোতলটি মুখের খুব কাছে আনবেন না। কিছুটা দূর থেকে স্প্রে করুন, যাতে তা মুখের উপর সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মেকআপকে জায়গায় ধরে রাখতে এই শেষ ধাপটি সাহায্য করতে পারে।
পুজোর ভিড়, গরম আর ঘাম—কোনওটাই এড়ানোর উপায় নেই। তবে ত্বকের সঠিক প্রস্তুতি, প্রসাধনীর পরিমিত ব্যবহার এবং মেকআপ সেট করার কয়েকটি সহজ কৌশল সাজকে দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ঠাকুর দেখার আনন্দে বার বার আয়না খুঁজে মেকআপ ঠিক করার ঝক্কিও কিছুটা কমবে।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
