অনেক দিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন প্রিয়দর্শিনী চিত্রনায়িকা মৌসুমী। দীর্ঘ তিন বছর অপেক্ষার পর দেশটির ‘গ্রিন কার্ড’ পেয়েছেন তিনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রে একটি টিভি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সুখবরটি জানান এই অভিনেত্রী।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মৌসুমী। এরপর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন। দেশটিতে তার কন্যা ফাইজা পড়াশোনা করছেন। কন্যা ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার বিষয়টিও দেখভাল করছেন এই অভিনেত্রী।
দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও গ্রিন কার্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় দেশে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতা ছিল বলে জানা যায়। অবশেষে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মৌসুমী।
মৌসুমী
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে নেই মৌসুমী। কিছু দিন আগে একটি নতুন সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন। সিনেমাটির নাম—‘আ বিউটিফুল লাই’।
থ্রিলারধর্মী রোড ট্রিপের গল্প নিয়ে নির্মিত হতে যাওয়া সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা এবং পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। যুক্তরাষ্ট্রে-ই সিনেমাটির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
১৯৯৩ সালে ক্ষণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহর বিপরীতে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে মৌসুমীর। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক দর্শক নন্দিত সিনেমা উপহার দিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।
মৌসুমী
দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মৌসুমী কাজ করেছেন দুই শতাধিক সিনেমায়। এরমধ্যে নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘলা আকাশ’ ও চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে ক্যারিয়ার শুরু করা মৌসুমী সফল হয়েছেন ওমর সানী, রিয়াজ, ফেরদৌস, ইলিয়াস কাঞ্চন ও মান্নার সঙ্গে জুটি বেঁধেও। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা হিসেবে সাফল্য পেয়েছেন মৌসুমী। ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ মৌসুমী পরিচালিত প্রথম সিনেমা। ২০০৬ সালে নির্মাণ করেন ‘মেহের নিগার’। এরপর নির্মাণ করেছেন ‘শূন্য হৃদয়’, ‘ভালোবাসবোই তো’ নামে দুটি সিনেমা।
মৌসুমী
দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন মৌসুমী। এর মধ্যে হলো—‘আত্মঅহংকার’, ‘স্নেহ’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘দেনমহর’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিদ্রোহী’, ‘বধূ’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ভাংচুর’, ‘সাজন’, ‘শেষ খেলা’, ‘আত্মত্যাগ’, ‘বিশ্ব প্রেমিক’, ‘গরিবের রানি’, ‘প্রিয় তুমি’, ‘রাক্ষস’, ‘সুখের স্বর্গ’, ‘আদরের সন্তান’, ‘সুখের ঘরে দুঃখের আগুন’, ‘লুটতরাজ’, ‘আম্মাজান’, ‘গোলাপী এখন বিলাতে’ প্রভৃতি।
