চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির জয়রথ থামিয়ে দিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট জয়ের পর এবার ঘরের মাঠ ইতিহাদে হারের স্বাদ পেয়েছে সিটিজেনরা। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংলিশ ক্লাবটিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের দাপট দেখায় লুইস এনরিকের দল। বিরতির আগেই তিন গোল হজম করে চাপে পড়ে যায় ম্যানচেস্টার সিটি। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পিএসজির আক্রমণ সামলাতে পারেনি স্বাগতিকরা।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে দেজিরে দুয়ের নিচু শটে এগিয়ে যায় পিএসজি। দুই মিনিট পর দুয়ের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। ৩২ মিনিটে ম্যাগনেস আকালিউশ ও জাইরে এমেরির দারুণ সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে তৃতীয় গোলটি করেন ভিতিনিয়া।
বিরতির পর তিনটি পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন সিটির কোচ। দ্বিতীয়ার্ধের আট মিনিটের মাথায় ইলিমান এনদিয়ায়ের পাস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান নরওয়েজীয় তারকা আর্লিং হালান্ড।
এই গোলের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সার্জিও অ্যাগুয়েরোকে ছাড়িয়ে যান হালান্ড। একই সঙ্গে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্রুততম ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। মাত্র ৬০ ম্যাচেই এই কীর্তি গড়েন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার; যেখানে মেসির লেগেছিল ৮০ ম্যাচ।
হালান্ডের গোলের পর ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল সিটি। কিন্তু ৬২ মিনিটে আকালিউশের গোল সেই আশায় বড় ধাক্কা দেয়। পিএসজির হয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় নিশ্চিতের পথ আরও সহজ করেন তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকে হালান্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন। তবে তাতে সিটির পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়নি। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে পারেনি পিএসজি। ফেরান তোরেসের স্পট কিক ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক দোন্নারুম্মা।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে পিএসজি। টানা দুই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে প্যারিসের ক্লাবটি। অন্যদিকে দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি হার নিয়ে ১৭ নম্বরে নেমে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
সব মিলিয়ে ইতিহাদে পিএসজির এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট অর্জন নয়, বরং চলতি মৌসুমে তাদের শিরোপার দাবিকেও আরও জোরালো করে তুলেছে।
