অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে জ্বালানি খাতের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং আলজেরিয়ার পক্ষে দেশটির জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী মোহামেদ আরকাব এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর আগে আলজেরিয়ার হুয়ারি বোমেডিয়েন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের মন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আলজেরীয় সমকক্ষ। চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জ্বালানি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
আলোচনা সভায় মূলত সরকারি পর্যায়ে অর্থাৎ জিটুজি পদ্ধতিতে আলজেরিয়া থেকে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এছাড়া বাংলাদেশে এলএনজি ও এলপিজি খাতের অবকাঠামো নির্মাণ এবং তেল, গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধানে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। জ্বালানি খাতের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে বাংলাদেশের প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের আলজেরিয়ায় বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান বাংলাদেশি মন্ত্রী।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে সন্তোষ প্রকাশ করে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ একে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। এর মাধ্যমে আফ্রিকার বিকল্প উৎস থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আমদানির নতুন পথ উন্মুক্ত হলো। সফরকালে আলজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল হুদা এবং আলজেরিয়ার খনি ও জ্বালানি খাতের একাধিক মন্ত্রী বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সার এবং কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
