সেই গতকাল ইনিংসের শুরু করতে নেমেছিলেন আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল। এরপর আউট হয়ে ফিরে গেছেন ৬ জন ব্যাটার। কিন্তু উইকেট কামড়ে পড়েছিলেন একপ্রান্তে। স্বাগতিকদের হয়ে লড়াই করে যাচ্ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে ছিলেন। অবশেষে সেই কাঁটা দূর করলেন তাইজুল ইসলাম। আশা জাগাল বাংলাদেশের।
মিরাজের দ্বিতীয় আঘাত, ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ
আগের দিন জয়ের আশা বাঁচিয়ে শেষ করলেও ম্যাচটা ক্রমেই যেন বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল। আফগানদের প্রতিরোধের সামনে অসহায় হয়ে পড়ছিল বাংলাদেশের বোলিং। অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফেরালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্রুতই দুই উইকেট তুলে নিলেন তিনি।
উইকেট কামড়ে পড়ে থাকা ইসমাত আলমকে ফিরিয়ে আফগানদের প্রতিরোধ ভেঙেছিলেন মিরাজ। এরপর উইকেটে এসেছিলেন দিনের শুরুতেই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া হাশমতুল্লাহ শাহিদি। তিনিও এসে অটলকে নিয়ে ৪৯ বল খেলে ফেলেছিলেন। সেই জুটিও ভাঙলেন মিরাজ। ফেরালেন শাহিদিকে। ফেরার আগে ৬৯ বলে ৩৬ রান করেছেন।
তবে আফগানদের ইনিংসের সূচনা করতে নামা ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল এখনো একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন। তাকে সঙ্গ দিতে এসেছেন ইয়ামিন আহমাদজাই।
অবশেষে জুটি ভাঙলেন মিরাজ
অবশেষে! মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ধরে স্বস্তি ফিরল বাংলাদেশ শিবিরে। উইকেট কামড়ে পড়ে থাকা ইসমাত আলমকে ফেরালেন তিনি। যদিও এখনো একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সেদিকুল্লাহ অটল। তবে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে অন্যপ্রান্তে আক্রমণ চালানো।
ইসমাত আলমের ব্যাটিংয়ের ধরণ দেখে বোঝা যায়, তার পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট-- যত সময় পারো উইকেটে তেকে দিন পার করো। ৪৫তম বলে প্রথম রান নিয়েছিলেন তিনি। তবে পরিকল্পনায় সফল হলেন না তিনি। ৯৮তম ওভারে মিরাজের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়লেন তিনি। এতে ভাঙে ১২৩ বলে ৪০ রানের জুটি। ইসমত ফেরেন ৬০ বলে ৪ রান করে। এখন উইকেটে এসেছেন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া হাশমতুল্লাহ শাহিদি।
ইসমত ফেরার আগেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন আফগান ওপেনার সেকিদুল্লাহ অটল। ২৭৭ বল খেলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও এটাই প্রথম।
হাত ফসকালো লিটনের, ম্যাচও কি ফসকাবে?
চতুর্থ উইকেটের দেখা পেতে দিনের প্রথম সেশনের প্রায় শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এরপর বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন ইবাদত হোসেন। দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ম্যাচে নবম ডিসমিশাল করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন লিটন। সেই লিটনেরই এবার হাত ফসকালো। পঞ্চম উইকেট থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ।
গতকাল ব্যাটিংয়ে নেমে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়াচ্ছেন আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। লক্ষ্য ড্র করা। সুযোগ এসেছিল সেই অটলকে ফেরানোর। কিন্তু সেটি ঠিকঠাক করতে পারলেন না লিটন।
তাইজুল ইসলামের বলে এগিয়ে এসেছিলেন সেদিকুল্লাহ। বলটা সামান্য টার্ন করে ভেতরে ঢুকেছিল, বাড়তি বাউন্সও ছিল। স্টাম্পিংয়ের সুযোগ পেলেও বলটা হাতেই জমাতে পারেননি লিটন। তার এই ভুলের মাশুল কতটা গুনতে হয় বাংলাদেশকে সেটাই দেখার অপেক্ষা।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগে বাংলাদেশের সাফল্য এক উইকেট
শেষ দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের হয়ে প্রতিরোধ গড়ছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল ও হাশমতুল্লাহ শাহিদি। তবে চোটের কারণে বেশিক্ষণ ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি শাহিদি। মেহেদী হাসান মিরাজের করা ওভারের চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে ফিল্ডারের থ্রো পায়ের প্যাডে লাগলে অস্বস্তিতে পড়েন তিনি। ২০ রান করা এই ব্যাটারকে মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন ফিজিও। পরে ফিজিওর সহায়তায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন শাহিদি। তার জায়গায় উইকেটে আসেন ইকরাম আলীখিল।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন অটল। ১৬৬ বল খেলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই আফগান ওপেনার। তার সঙ্গে জুটি গড়ে ইকরামও বাংলাদেশের বোলারদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিলেন। তবে ইবাদতের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ইকরাম ফিরে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি নিয়েই মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
