Published on
:
2 min read
ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সারের নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্তনের ভিতর কোনও শক্ত চাকা বা লাম্পের অস্তিত্ব। কিন্তু স্তন ক্যান্সার যে সবসময় লাম্প দিয়েই শুরু হবে, এমন কোনও কথা নেই। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রায় ১০ শতাংশ স্তন ক্যান্সার রোগীর ক্ষেত্রেই প্রাথমিক লক্ষণ টিউমার নয়, বরং ত্বকের সাধারণ কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়! শুধু তা-ই নয়, স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার ফলেও প্রায় ৯৪ শতাংশ রোগীর ত্বক, চুল এবং নখে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই অভিজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কোনও পরিবর্তন চোখে পড়লে প্রথম থেকেই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ত্বকে কী ধরনের পরিবর্তন দেখলে সতর্ক হবেন?
ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট (NCI)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত যে কোনও একটি স্তনে এই পরিবর্তনগুলি লক্ষ করা যায়।
ত্বকের রং পরিবর্তন বা স্থায়ী র্যাশ: স্তনের ত্বকে কালচে বা লালচে ছোপ পড়া, যা দীর্ঘদিনেও সারছে না।
কমলালেবুর খোসার মতো ত্বক: স্তনের ত্বক ফুলে যাওয়া, উষ্ম ভাব অনুভূত হওয়া কিংবা ত্বক ছোট ছোট ছিদ্রসহ কমলালেবুর খোসার মতো কুঁচকে যাওয়া।
নিপল বা স্তনবৃন্ত ভিতরে ঢুকে যাওয়া: নিপলের আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন আসা বা স্তনবৃন্ত ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।
সব ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ক্যান্সারের লক্ষণ নাও হতে পারে, তবে লক্ষণ যদি স্থায়ী হয় সে ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ইনফ্লেমেটরি বা প্রদাহজনিত ব্রেস্ট ক্যান্সার
ত্বকের এই লক্ষণগুলি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ‘ইনফ্লেমেটরি ব্রেস্ট ক্যান্সার’-এর ক্ষেত্রে। এটি অত্যন্ত বিরল কিন্তু মারাত্মক আক্রমণাত্মক বা অ্যাগ্রেসিভ এক ধরনের ক্যান্সার।
ম্যামোগ্রামে ধরা না পড়া: যে হেতু আইবিসি (IBC)-তে কোনও শক্ত লাম্প তৈরি হয় না, তাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা সাধারণ ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এগজ়িমা বা ইনফেকশন ভেবে ভুল করা: চিকিৎসকরা একে অনেক সময় সাধারণ স্তনের ইনফেকশন বা এগজ়িমা ভেবে ভুল করে ফেলেন। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও যদি র্যাশ বা ফোলা ভাব না কমে, তখন ‘পাঞ্চ বায়োপসি’-র মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা হয়।
ক্যান্সারের চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রেডিয়েশন থেরাপি ও ত্বকের জ্বালা: রেডিয়েশনের ফলে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। দেখলে অনেক সময় মনে হয় যেন সানবার্ন হয়েছে। চুলকানি ও ফোসকা পড়তে পারে। এই সময়ে গন্ধহীন মাইল্ড ময়শ্চারাইজ়ার ও সুতির পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চুল পড়ে যাওয়া ও মানসিক চাপ: ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন প্রায় ৭০% রোগী বড় একটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় চুল ঝরা। কেমোথেরাপির সময় ‘স্ক্যাল্প কুলিং’ প্রযুক্তির ক্যাপ ব্যবহার করলে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা এড়ানো যায়।
ভ্রু ও পাপড়ির যত্ন: কেমোর প্রভাবে ভ্রু ও পাপড়ি-ও পাতলা হয়ে যেতে পারে। তবে চিকিৎসা শেষে মাইনক্সিডিল বা বিশেষ থেরাপির সাহায্যে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।