যশোর: দেশের প্রথম রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এসময় তিনি দুই কিলোওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম চালু করেন। নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমের মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার সাহায্যে জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিমন্ত্রী।
এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যশোর বিএনপির কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ চালুর মধ্যে দিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের সারাদেশের কার্যালয়ে এই সোলার বসানোর আগ্রহ দেখাবে। জেলা বিএনপির এই বিনিয়োগ আগামী সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই উঠে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে দ্রুত সেচের পাম্পগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, যেসব স্থানে ডিজেল দিয়ে পানির পাম্প চালানো হয় সেখানে পর্যায়ক্রমে সৌর বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে দ্রুত সেচের পাম্পগুলোতে সৌর বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে।’
তিনি বলেন, ‘সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ ও ডিজেলের উপর চাপ কমে, সূর্যের তাপ থেকে এসব সেচ পরিচালনা সহজ হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বেড়ে যাবে, কৃষকেরা সচ্ছলতা ফিরবে।’
আগামী গ্রীষ্মের আগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার থেকে ৪ মেগাওয়াট উৎপাদনে সক্ষম হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, ‘সারাদেশে সৌর বিদ্যুতের ওপর মানুষের যে আগ্রহ, তাতে আগামী গ্রীষ্মের আগে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে অতিরিক্ত ৩ হাজার থেকে ৪ মেগাওয়াট উৎপাদনে সক্ষম হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে চায় সরকার।
তিনি আরও বলেন, নীতিমালার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি তরুণ উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণও দেবে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা উন্নয়ন করতে পারবে। স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সার্ভিস প্রোভাইডার নির্বাচন করা হবে। একক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেও আবেদন ও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, যা স্থানীয় ও নতুন উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, বর্তমানে সারাবিশ্বেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। নিজস্ব ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে আমরা বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে পারি, সেই প্রয়াস থেকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা দুই কিলোওয়াট প্যানেল বসিয়েছি। ইনভার্টার সিস্টেমের মাধ্যমে পরবর্তীতে ছয় কিলোওয়াটে নেওয়া যাবে। যতদূর জানি, রাজনীতিক কার্যালয়ে যশোরই প্রথম জেলা যারা সোলার সিস্টেম চালু করেছে। এই মডেল সারাদেশে রাজনীতিক দলগুলো তাদের কার্যালয়ে বাস্তবায়ন করলে বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমের উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সাল, সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ।
