জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মামুন (২৫) নামে এক বাসচালকের বাম চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক আওলাদ হুসাইন তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এই আবেদনে বলা হয়, পলক ও আনিসুল হক বর্তমানে অন্য একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। মামলার তদন্তে তাদের জড়িত থাকার প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্যরা গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখানোর ওই আদেশ দেন আদালত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বাদীর বন্ধু হোসেন, খোকন, আরিফসহ অনেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফ্লাইওভারের ওপর অবস্থানকালে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়।
এ সময় বাদীর শরীরের বিভিন্ন স্থান, বাম চোখ ও মাথায় গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ইসলামিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাম চোখের অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার একপর্যায়ে তার বাম চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর রাজধানীর নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
অপরদিকে, একই বছরের ১৫ আগস্ট খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় পলককে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে আছেন তিনি।
