
ভেড়ামারায় মাল্টা চাষে সফল মাহমুদ আল ইমরান
গাছে গাছে থোকায় থোকায় দুলছে বারি-১ জাতের সবুজ মাল্টা। রসে ভরপুর ও স্বাদে অনন্য এই ফল চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদ আল ইমরান (৪৮)। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ৮ বিঘা লিজকৃত জমিতে গড়ে তোলা তার ফলের বাগান এখন এলাকার মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের জামাইপাড়া এলাকার বাগানে দেখা গেছে, সারি সারি মাল্টা গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য বড় বড় মাল্টা। ফলের ভারে অনেক ডাল মাটির দিকে নুয়ে পড়েছে। পুরো বাগানজুড়ে যেন সবুজ মাল্টার সমারোহ। বাগানে আসা দর্শনার্থী ও ক্রেতারা গাছ থেকে সরাসরি ফল পেড়ে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
চার বছরের পরিশ্রম, পরিচর্যা ও পরিকল্পনায় বাগানটি এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনক্ষম হয়ে উঠেছে। উদ্যোক্তা মাহমুদ আল ইমরান বলেন, শুরুতে অনেকেই মাল্টা চাষে ঝুঁকি রয়েছে বলে তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। গত বছর বাগান থেকে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ফল বিক্রি করেন প্রায় ৮ লাখ টাকা।
এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ফলন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। আশা করছি এবছর ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবো।
মাল্টা চাষাবাদে লোকসানের ঝুঁকি কম, খরচও তুলনামূলক কম। বাজারে দেশীয় মাল্টার চাহিদা বেশি হওয়ায় এবং স্বাদে সুস্বাদু হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে মাল্টা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মাহমুদ আল ইমরানের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় মাল্টা ঝুলছে।
“আমাদের এলাকায় মাল্টা চাষ করা সম্ভব, এটা আগে ভাবিনি। ২০২২ সালে মহেশপুরের রহিম নার্সারী থেকে বারি-১ জাতের চারা এনে ৮বিঘা জমিতে রোপণ করি। বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই গাছে প্রচুর ফল এসেছে। বাজারের মাল্টার তুলনায় স্বাদে ও গুণে এগিয়ে আমাদের দেশীয় মাল্টা। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। পাইকারি ক্রেতারা মণ হিসেবে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগান পরিষ্কার রাখলেই ফলন ভালো হয়।”
ভেড়ামারার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, মূলত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাল্টা সংগ্রহের মৌসুম। এ ধরনের কৃষি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে অন্তত দুইবার বাগান পরিদর্শন করে গাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
মাল্টা বাগানে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই দেখা দিতে পারে। এসব রোগ সঠিকভাবে শনাক্ত করে কৃষকদের সার ও কীটনাশক সঠিক মাত্রায় এবং যথাসময়ে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাগানের পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণেও নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সদরুল ইসলাম বলেন, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মাল্টা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বক ও চুল ভালো রাখা এবং শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। বারি-১ জাতের মাল্টা চাষে আমাদের কৃষক মাহমুদ আল ইমরান সাফল্য পেয়েছেন। এ অঞ্চলে মাল্টা চাষ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।
ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা সুলতানা পলি বলেন, কৃষি অফিস থেকে মাহমুদ আল ইমরানের বাগানে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাকে দেখে এলাকার অন্য কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তারাও আধুনিক ও উচ্চমূল্যের ফল চাষে উৎসাহিত হন।
তার সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও মাল্টা চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই অনেকে তার বাগান পরিদর্শনে এসে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষের পদ্ধতি, পরিচর্যা, সার প্রয়োগ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।
