কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক ভিডিও তৈরি এবং মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন মক্কার মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস।
তিনি বলেছেন, মানুষকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার হারাম। একই সঙ্গে প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মসজিদে হারামে জুমার খুতবায় শায়খ সুদাইস আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলা, অন্যের পরিচয় ধারণ এবং কারও নামে মিথ্যা বক্তব্য ও ছবি প্রচারের বিষয়ে মুসলমানদের সতর্ক করেন।
শায়খ সুদাইস সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভিডিও বিকৃত করা, মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করা, অন্যের পরিচয়ে নিজেকে উপস্থাপন করা এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো ইসলামে নিষিদ্ধ মিথ্যাচারের অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের কাজ মানুষের অধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করে।
এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও এবং নকল কণ্ঠস্বর দিয়ে বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রমেই বাস্তবের মতো হয়ে উঠছে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল রেকর্ডিং ও পরিবর্তিত কন্টেন্টের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে শায়খ সুদাইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে সামগ্রিকভাবে নিন্দা করেননি। বরং আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করে এগুলো দায়িত্বশীলভাবে এবং কল্যাণকর কাজে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি মুসলমানদের সংবাদ, ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার আগে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান। তার সতর্কবার্তা অনুযায়ী, যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে পড়লে গুজব বাড়তে পারে, মানুষের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হতে পারে এবং জনসাধারণের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
শায়খ সুদাইস বলেন, ডিজিটাল যুগে সততা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং প্রযুক্তির ব্যবহার হওয়া উচিত মানুষের উপকারে, কাউকে প্রতারিত করা কিংবা ক্ষতি করার জন্য নয়। তাই আলেম, পরিচিত ব্যক্তি কিংবা ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের নামে প্রচারিত ভাইরাল ভিডিও ও অডিও শেয়ার করার আগে মুসলমানদের সতর্ক থাকা উচিত। মূল উৎস যাচাই করে কনটেন্ট শেয়ার করলে ভুল তথ্যের বিস্তাররোধ করা এবং অন্যের অধিকার ও সম্মান সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব।
