

যশোরে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক পিতাও আহত হয়েছেন। রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ হানুয়ার বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন,হানুয়ার গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী (৩২) ও তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে আবদুর রহমান।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু সাঈদ বলেন, মৌসুমী ও তার ছেলে স্বামী ওমর ফারুকের মোটরসাইকেলে করে যশোর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হানুয়ার বটতলায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মাছবাহী পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৌসুমী ও তার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পিতা ওমর ফারুক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌনে ৩ কোটি টাকার সোনাসহ যাত্রী আটক
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ৪৮২ গ্রাম সোনার গহনাসহ মো. শরীফ নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে জেদ্দা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন তিনি। জব্দ করা সোনার গহনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৮৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে অ্যারাইভাল হলের ১ নম্বর ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় ওই যাত্রীর সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমস যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। এ সময় যাত্রীর হ্যান্ডব্যাগ ও পরিহিত পোশাক থেকে চুড়ি আকারের ১ হাজার ৪৮২ গ্রাম সোনার গহনা জব্দ করা হয়। অভিযানে ডিজিএফআই, এনএসআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আটক মো. শরীফের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। তিনি ‘মানিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস হজ কাফেলা’র সদস্য। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জব্দ করা সোনার চালানের পরিমাণ নির্ধারণের পর তা বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে চোরাচালান আইনে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, সোনা চোরাচালান ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধে বিমানবন্দরের গোয়েন্দা সংস্থা, কাস্টমস ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

চলন্ত বাসে নারীর ওপর যৌন নিগ্রহের দায়ে চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীর ওপর যৌন নিগ্রহ (ধর্ষণ) চালানোর অপরাধে বাসের চালক, চালকের সহকারী ও কন্ট্রাক্টরসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনম ইলিয়াস ওই রায় ঘোষণা করেন। আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডিত প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- বাসের চালক মো. আলতাফ (২৫), চালকের সহকারী মো. রাব্বি (২১) এবং বাসের কন্ট্রাক্টর সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)। এদের মধ্যে আলতাফ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে, রাব্বি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে এবং সাগর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজারের চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে। মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে যৌন নিগ্রহের(ধর্ষণের) শিকার ওই নারী ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে বাসটি ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে চলন্ত বাসের ভেতর ওই তিন জন পর্যায়ক্রমে ওই নারীর ওপর যৌন নিগ্রহ (ধর্ষণ) চালায়। যৌন নিগ্রহ (ধর্ষণ) শেষে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তারা বাসটি নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চক্কর দিতে থাকে। পরদিন সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামলে ওই নারী সেখানে দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের টহল দলকে বিষয়টি জানান। হাইওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বাসসহ অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ঘটনার দিনই ওই নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান, এই মামলায় মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রোববার তিন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডিতদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

চুনারুঘাটে বিজিবির অভিযানে ৪৮ কেজি গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারী আটক
চুনারুঘাটে ৫৫ বিজিবির অভিযানে ৪৮ কেজি গাঁজাসহ ১ মাদক কারবারী আটক চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক অভিযানে ৪৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও এক বোতল ভারতীয় বিয়ার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানে উজ্জল বাড়াই (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা-বাগানের ১২ নম্বর সেকশনে অভিযান চালায় চিমটিবিল বিওপির টহলদল। এ সময় উজ্জল বাড়াইকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৩৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা ও এক বোতল ভারতীয় বিয়ার জব্দ করা হয়। আটক উজ্জল বাড়াই আমু চা-বাগানের পুরান লাইনের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত বালক বাড়াই। এদিকে, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সাতছড়ি বিওপির টহলদল চুনারুঘাটের সুন্দরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় পাঁচ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করে। একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাঢ়োটিলা এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও চার কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তি ও জব্দ করা মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ৫৫ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে। মাদকমুক্ত সীমান্ত গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অশ্লীল ভিডিওর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, গোবিন্দগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষক কারাগারে
গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীর মায়ের অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শিক্ষার্থীর মায়ের অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার লালমাটিয়া নুরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার তিন শিক্ষক মোহন মিয়া, ফরিদুল ইসলাম ও আবু সাঈদ মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীর মায়ের সাথে কৌশলে সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিভিন্ন সময়ে ভিডিও কলে তাদের যোগাযোগ হয়। এক সময় ওই তিন শিক্ষক আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আরও টাকার জন্য চাপ দিলে ওই শিক্ষার্থীর মা থানায় অভিযোগ করেন। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মাহফুজ আলম বলেন অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে শিক্ষক আবু সাঈদকে গ্রেফতার করা হয়। আজ রবিবার আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

সারিয়াকান্দিতে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ৭ ইউপি সদস্যর অভিযোগ!
স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগে নিজ ইউপি সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কাজী মো.মনজুরুল ইসলাম মনিম। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির মহা উৎসবের অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রকাশ করেছে ইউনিয়ন পরিষদের সাত সদস্য। জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর (বৃহষ্পতিবার ) এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অনাস্থা বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন ৭ জন ইউপি সদস্য। অনাস্থা আনয়নকারী ৭ ইউপি সদস্যরা হলেন, ২ নং ওয়ার্ডের তহিদুল ইসলাম বাদশা, ৭ নং ওয়ার্ডের ফরিদ উদ্দিন, ৮নং ওয়ার্ডের আমির মন্ডল, ৩নং ওয়ার্ডে আনোয়ার, ৯ নং ওয়ার্ডের জাহিদুল ইসলাম, সংরক্ষিত (১,২,৩) ইউপি সদস্য মোছা.পারুল খাতুন এবং (৪,৫,৬) সদস্য মোছা, রুপালী খাতুন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকার পতনের ফলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পালিয়ে যায়। তখন থেকে ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কাজী মনজুরুল ইসলাম মনিম প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন । দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সংরক্ষিত (৭,৮,৯) মহিলা সদস্য বিউটি আক্তারসহ ২/১ সদস্য ম্যানেজ করে তিনি দুর্নীতির মহা উৎসব চালাচ্ছে। এই দুর্নীতি চালাতে তাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করে ইউনিয়নের সচিব আবুল কালাম আজাদ। ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোনো সভা না করে, চেয়ারম্যান কাজী মো. মনজুরুল ইসলাম মমিন সকল কাজের সিদ্ধান্ত নেয় তিনি ও সচিব মিলে। সরকারের প্রদত্ত সকল প্রকার ভাতা প্রকৃত ভাতাভোগীদের না দিয়ে চেয়ারম্যান ও সচিব তাদের নিজেদের ইচ্ছেমতো তাদের পছন্দের লোকদের প্রদান করেন। অভিযোগ সুএে আরও জানাযায়, চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ইউপি সদস্যরা স্ব-স্ব ওয়ার্ডের প্রকৃত প্রতিবন্ধী, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্কদের ভাতা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করলেও চেয়ারম্যান তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে নিজের পছন্দ মতো নামের তালিকা প্রণয়ন করেন। মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য প্রতিজন থেকে তালিকায় নাম দেওয়ার সময় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা নেন। এ ছাড়া অগভীর নলকূপের তালিকা দেওয়ার সময় প্রতিটির জন্য কয়েক হাজার টাকা করে নেন তিনি। একাধিক ইউপি সদস্যের দেওয়া তথ্যমতে, তিনি যখন ইউপি সদস্য ছিলেন তখন তার পরিবারের দৈনিক খরচ চালাতে হিমশিম খেতো। প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই তার হাবভাবে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। এখন সে দোতলা বাড়ি নির্মান করেছে। ইউনিয়ের সচিবের সহযোগিতায় সে নিজে প্রভাব খাটান। পরিষদের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় না করে নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেন। অতি সম্প্রতি উন্নয়ন তহবিলের অর্থের বেশির ভাগ টাকায় তার কাছে রয়েছে। কামালপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এজন্য জনগণ সব সময় আমাদের দিকে চেয়ে থাকে। কিন্তু বণ্টন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও স্বজনপ্রীতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। কোনো কার্ড এলে ইউপি চেয়ারম্যান তার অনুকূলে অর্ধেকের বেশি বরাদ্দ রেখে অল্প সংখ্যক আমাদের দেয়। ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান আমাদের ইউনিয়নের সচিব আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে উন্নয়নমুলক কাজ নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকার বিনিময়ে বিলি বন্টন করে থাকে। কোন কাজে একান্ত আমাদের সই স্বাক্ষরের দরকার হয়। ইউপি সচীবের মাধ্যমে সম্মানী ভাতা তোলার কথা বলে চেকে আগাম সই নিয়ে রাখে৷ এসব অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে করেছি। আমাদের এমপি, দুদক, স্হানীয় সরকার মন্ত্রলয়ায়, জেলা প্রশাসককেও লিখিত অভিযোগ দিবো। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কাজী মনজুরুল ইসলাম মনিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিবো। তদন্ত কমিটির রির্পোটে সত্যতা পেলে ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।


