বিশেষ প্রতিবেদক :: কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে একের পর এক গড়ে উঠছে হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগেরই নেই সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্র।
অনেক রিসোর্টে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামও চোখে পড়ে না। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায়ও (ইসিএ) গড়ে উঠেছে একাধিক স্থাপনা। প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতিতে এভাবে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।
গত শনিবার কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে পর্যটন এলাকার হোটেল-রিসোর্টের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ও তদারকির ঘাটতি।
অনুমোদন না থাকায় গত ১৩ মে রিসোর্টটিকে জরিমানা করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। এর আগে গত জুলাই মাসে ফায়ার সার্ভিসও প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছিল। তারপরও সেখানে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি।
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ‘সি ফুড ক্যাফে অ্যান্ড রিসোর্ট’।
এক মাস আগে দোতলা ক্যাফেটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রিসোর্ট নির্মাণের কাজ। এর পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘বিচ আনাইয়া ফুড জাংশন অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির কাঠামোর কিছু অংশে ইটের দেয়াল থাকলেও বাকি অংশ বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি।
গতকাল রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে ঘুরে সি ফুড ক্যাফে ও বিচ আনাইয়ার মতো ৮০টি রিসোর্ট দেখা গেছে।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব রিসোর্টের অধিকাংশই গত এক থেকে তিন বছরের মধ্যে গড়ে উঠেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এখনো নির্মাণকাজ চলছে।
বেশির ভাগেরই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেই। অন্তত ২০টি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায়।
হিমছড়ির সি ফুড ক্যাফে অ্যান্ড রিসোর্টের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, সরকারি অনুমতি ড়ে উঠছে ই বাবুল নামে এক ব্যক্তি এটি নির্মাণ করছেন। যোগাযোগ করা হলে বাবুল বলেন, ‘শিগগিরই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমতির জন্য আবেদন করব।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভে প্রশাসনের চোখের সামনেই একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, আবার কেউ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগসাজশ বা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।
৩৬ রিসোর্টকে নোটিশ, ২২টিকে জরিমানা
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৬টি রিসোর্টকে গত নয় মাসে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। পেভেল স্টোন সি রিসোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।
জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সি সল্ট ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সানসেট বিচ ক্যাফে, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাফে, সি স্টোন ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সি ফিশ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, কোরাল স্টেশন ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, বিচ আনাইয়া ফুড জাংশন অ্যান্ড রিসোর্ট, রিয়ান ফুড রেস্তোরাঁ, সাওয়ারূ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, ক্যাপ্টেন কক্স বিচ ক্যাফে, বিচ সালসা রেস্টুরেন্ট, সাম্পান বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, জাহাজপুরা ক্যাসেল, বিচ ভিউ রেস্টুরেন্ট, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, জিডি সমুদ্র বিলাস, মায়াবী বিচ রিসোর্ট, টাইটান হোটেল, হোটেল জানা ডাডা ও হোটেল সুইট সাদাফ।
নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বে হিল গোল্ড স্যান্ডস গ্রুপ, বে ফ্রুট রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সাম্পান রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে, আরনিক রিসোর্ট, ছুটি রিসোর্ট, হোটেল ইনানী লং বে ও ওশান পাল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। এ ছাড়া ফিরোজ আহমদ, মোজাম্মেল হক, কাশেম আলী ও শহীদুল হকের মালিকানাধীন নামবিহীন চারটি নির্মাণাধীন ভবনকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা সমকালকে বলেন, ‘কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে শুধু টুপটুপ রিসোর্টই নয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া নির্মিত কিংবা নির্মাণাধীন সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।’
তিনি বলেন, অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৩৬টি রিসোর্টকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ২২টিকে জরিমানা করা হয়েছে। পেভেল স্টোন সি রিসোর্টের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে।

রিসোর্ট নির্মাণে প্রয়োজন ১৭ দপ্তরের অনুমোদন
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারে রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ১৭ ধরনের লাইসেন্স ও অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র। তবে মেরিন ড্রাইভ সড়কে নির্মিত অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টের এসব অনুমোদন নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান সমকালকে বলেন, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে বর্তমানে শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। তবে তাঁদের সংগঠনের সদস্যভুক্ত হোটেলের সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৫টি।
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, সংগঠনের সদস্যভুক্ত হোটেলগুলো যেন সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। তবে শনিবার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ নামে যে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেটি আমাদের সংগঠনের সদস্যভুক্ত নয়।’
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কক্সবাজারে প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান ফায়ার সার্ভিসের সব ধরনের নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। বাকি হোটেল-মোটেলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস কোনো প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দিয়ে সতর্ক করতে পারে। তবে অভিযান চালানো বা জরিমানা করার এখতিয়ার তাদের নেই। গত জুলাই মাসে টুপটুপ রিসোর্টকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন সমকালকে বলেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কে তারকা মানের কয়েকটি আবাসিক হোটেলের ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র রয়েছে। তবে নামে-বেনামে গড়ে ওঠা অধিকাংশ রিসোর্টেরই ছাড়পত্র নেই। ঠিক কতটি রিসোর্টের ছাড়পত্র নেই, তা এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, মেরিন ড্রাইভ সড়কে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে তাঁর জানা মতে পরিবেশ অধিদপ্তরই আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণের খবর পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে জনবলসংকটের কারণে অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে সব স্থাপনা নজরে আসে না।

অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে বাড়ছে ঝুঁকি
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে অনুমতি ছাড়াই যেভাবে রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতে পরিকল্পিত পর্যটননগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর শুরুতেই অবৈধ ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের প্রাণহানির মতো ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত। শুধু নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না। অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, টুপটুপ রিসোর্টের কউকের অনুমোদন ছিল না। মেরিন ড্রাইভে শতাধিক প্রতিষ্ঠান থাকায় সবগুলো একসঙ্গে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পর্যায়ক্রমে যাচাইয়ের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নোটিশ দেওয়ার পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এরপর চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
জেলায় ৩০০-৩৫০ হোটেল-রিসোর্টে নানা সমস্যা
টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডের পর কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল, কটেজ ও রিসোর্টের অনুমোদন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২০টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। বাকি ৩০০ থেকে ৩৫০টির মতো প্রতিষ্ঠানের কোনো না কোনো অনুমোদন বা নিয়মসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান সমকালকে বলেন, হোটেল-মোটেল ও কটেজের অনুমোদনের সঙ্গে পুলিশ সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়। তবে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে ১২০টির মতো হোটেল-মোটেল ও কটেজ সব ধরনের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বাকি ৩০০ থেকে ৩৫০টির মতো প্রতিষ্ঠানের কোনো না কোনো সমস্যা আছে। নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতে আমরা বড় পরিসরে কাজ শুরু করব।’
তবে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার শহর, রামুর পেচারদ্বীপ, উখিয়ার ইনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে সহস্রাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
হোটেল মালিক সমিতির একাধিক নেতা জানান, কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল মালিকদের অন্তত পাঁচটি পৃথক সংগঠন রয়েছে। এ ছাড়া তারকা মানের হোটেলগুলোর জন্য আলাদা সংগঠন আছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার সমকালকে বলেন, তাঁদের সংগঠনে প্রায় ১০০টি হোটেল-মোটেল রয়েছে। এ ধরনের আরও কয়েকটি সংগঠন আছে। তাঁর দাবি, তাঁদের সংগঠনের সদস্যদের সবার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশ আইন অনুযায়ী এসব রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া এবং জরিমানা করা গেলেও সরাসরি উচ্ছেদ বা বন্ধ করার এখতিয়ার অধিদপ্তরের নেই। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আইনি ক্ষমতা রয়েছে।
টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর মেরিন ড্রাইভসহ জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোর হোটেল-রিসোর্টের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাইয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

