যুক্তরাজ্যে বাসে উচ্চস্বরে গান বাজালে ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
বাসে উচ্চস্বরে গান বা ভিডিও চালানো, ময়লা ফেলা, ভ্যাপিং ও হুমকিমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব অসামাজিক আচরণের জন্য যাত্রীদের সর্বোচ্চ ১০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।
‘স্কাই নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জারি করা নতুন নির্দেশনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে গণপরিবহনে অসামাজিক আচরণ ঠেকাতে বিধিনিষেধ প্রণয়ন ও তা কার্যকরের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব নিয়ম কার্যকর করতে পরিবহনমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে হবে। বাসচালকের পরিবর্তে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়মগুলো প্রয়োগ করবেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে গত আগস্টে ঘোষিত এসব ক্ষমতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, কয়েকজনের অসচেতন আচরণে অন্য যাত্রীদের যাত্রা দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে। উচ্চস্বরে গান বাজানো, ভ্যাপিং কিংবা ময়লা ফেলার মতো আচরণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। আচরণে সামান্য পরিবর্তনও গণপরিবহনে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা অনেক উন্নত করতে পারে।
গত এক বছরে গণপরিবহনে উচ্চস্বরে গান বাজানো বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা। এর আগে গত বছরের আগস্টে লন্ডনের পরিবহন সংস্থা ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) গণপরিবহনে হেডফোন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে প্রচারাভিযান শুরু করে।
তবে নতুন উদ্যোগের সমালোচনা করেছে পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন ইউনাইট।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম বলেন, উদ্যোগটি ভালো উদ্দেশ্যে নেওয়া হলেও পরিবহনকর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতন ও হয়রানি মোকাবিলায় তা যথেষ্ট নয়। প্রস্তাবিত জরিমানা কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ট্রেনে উচ্চস্বরে গান বা ভিডিও চালানো নিরুৎসাহিত করতে দেশব্যাপী নতুন প্রচারাভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন বার্নহ্যাম। এর স্লোগান, ‘বগি ভাগাভাগি করুন’ শব্দ নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রেনে কেউ মোবাইল ফোনে উচ্চস্বরে গান বা ভিডিও চালালে অন্য যাত্রীদের বিরক্তি তৈরি হয় এবং পুরো যাত্রার অভিজ্ঞতা নষ্ট হতে পারে। তাই ট্রেনে হেডফোন ব্যবহারে যাত্রীদের উৎসাহিত করতে এ প্রচারাভিযান চালানো হবে।
যুক্তরাজ্যে ট্রেনে উচ্চস্বরে গান বাজানো আগে থেকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তবে ভাড়া ফাঁকি দেওয়ার মতো অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রয়োগের দায়িত্ব ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
