কালবেলা · সাধারণ
চবিতে সড়ক সংস্কার, হাত দিলেই উঠছে পাথর
১৩/১০/২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সড়ক সংস্কারে দায়সারা কাজের অভিযোগ উঠেছে। সংস্কারের পর হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে সড়কে ব্যবহৃত পাথর।
এছাড়া, ফিনিশিং না করেই কাজ শেষ করার অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রকৌশল দপ্তরের দাবি, বাজেট সংকটের কারণে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়েছে সড়কগুলো।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত, জিরো পয়েন্ট থেকে সোহরাওয়ার্দী মোড় পর্যন্ত এবং চাকসুর সামনের সড়কের গর্তগুলো সংস্কার করা হয়েছে। তবে সংস্কার করা সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে টান দিলে পাথর উঠে আসছে। পাশাপাশি, সড়কের উপরিভাগে ফিনিশিংয়ের কাজও না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সংস্কারকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে সড়কগুলো সংস্কার করা হয়েছে। তবে সংস্কারকাজে সিলকোট দেওয়া হয়নি। ফিনিশিংসহ আরও দুটি ধাপের কাজ বাকি রয়েছে। বাজেট সংকটের কারণে এসব কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে প্রকৌশল দপ্তর।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) ইমদাদুল হক রিয়াদ বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বাইরের সড়কগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হয়েছে। পুরো কাজের প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছিল। তবে যান চলাচলে যেসব স্থানে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, প্রাথমিকভাবে সেগুলো ঠিক করেছি।’
তিনি বলেন, ‘সড়কগুলো অন্য রাস্তার মতো পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার ও ফিনিশিং করার দুটি ধাপ বাকি রয়েছে। বাজেট সংকটের কারণে সেগুলো করা হয়নি।’
সংস্কারের পর হাত দিয়ে পাথর উঠে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিটুমিনের সড়ক সেট হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। বর্তমানে হিটও রয়েছে। সড়কের ওপর সিলকোট দেওয়া হয়নি, শুধু কার্পেটিং করা হয়েছে। বাকি দুটি ধাপের কাজের জন্য বাজেট প্রয়োজন।'
বৃষ্টিতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিটুমিনের সড়কে পানি মূল সমস্যা। সড়কের কোনো স্থানে ছিদ্র থাকলে সেখান দিয়ে পানি প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে। বৃষ্টি হলে নতুন রোড় ক্ষতি হতে পারে।'
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর ফজল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছিলাম। আমাদের বাজেট নেই। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে গর্ত ভরাট করেছি, কিন্তু সিলকোট দেওয়ার মতো বাজেট নেই। বিটুমিনের সড়ক স্থায়ী সমাধান নয়।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗