মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়ের মুখে হাসি ফোটানো এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার মধ্যেই মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে পান মোজাম্মেল হোসেন মোল্লা। মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পরোপকারের প্রত্যয় নিয়ে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে চলেছেন তিনি। মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তাঁকে এলাকায় পরিচিত করে তুলেছে একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে।
মোজাম্মেল হোসেন মোল্লার মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ক্ষেত্র ‘শতরূপা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির মহাসচিব হিসেবে তিনি সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সচেতনতা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
শিবালয় উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে চরাঞ্চলের বিভিন্ন জনপদে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনসংগ্রাম প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান। নানা প্রতিকূলতার কারণে অনেক পরিবার মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খায়। এসব মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। মোজাম্মেল হোসেন মোল্লার মানবিক চিন্তা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সেই প্রয়োজনের কথাই সামনে নিয়ে আসে।
অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, শীতার্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসা এবং আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার সুযোগ সৃষ্টির মতো উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শতরূপা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।
মানবিক সমাজ গঠনের প্রত্যয়
একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগ। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকেই মানবিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। এ ক্ষেত্রে মোজাম্মেল হোসেন মোল্লার সামাজিক কর্মকাণ্ড স্থানীয় পর্যায়ে মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
মানবসেবা কেবল আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসহায় মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বিপদে সাহস জোগানো, শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা করা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও মানবিক কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ একটি সহানুভূতিশীল সমাজ গঠনে সহায়ক হতে পারে।
শতরূপা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও বিস্তৃত করার মাধ্যমে শিবালয় উপজেলার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এর সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
মানুষের ভালোবাসাই হোক পথচলার প্রেরণা
মোজাম্মেল হোসেন মোল্লার মতো সামাজিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগের স্থায়িত্ব নির্ভর করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সঠিক পরিকল্পনা এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার ওপর। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষিত সমাজ ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে মানবসেবার পরিধি আরও বাড়তে পারে।
শিবালয় উপজেলার মানুষের প্রত্যাশা, মানবিকতা ও পরোপকারের চর্চা আরও বিস্তৃত হোক। শতরূপা মানবিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ আরও গতিশীল হোক এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের সুযোগ লাভ করুক।
মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয়ই হোক মোজাম্মেল হোসেন মোল্লার আগামীর পথচলার মূল প্রেরণা। কারণ, মানবিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য পদ-পদবি কিংবা পরিচয়ে নয়; বরং মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখার মধ্যেই নিহিত।
