প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বক্তব্য দেবেন। এ জনসভাকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করেছেন ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নগরীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাবেন। পরে বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রাজশাহীতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সড়ক সংস্কার ও সড়ক বিভাজকে রং করার কাজ করা হয়েছে। জনসভা উপলক্ষে মাদ্রাসা মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে বড় মঞ্চ।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে কখনো রাজশাহী আসেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন। তিনি তাদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জনসভায় রাজশাহীবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা হবে ঐতিহাসিক।
মিজানুর রহমান মিনু জানান, জনসভায় রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, রাজশাহী-কলকাতা, রাজশাহী-ঢাকা ও রাজশাহী-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি তিনটি ট্রেন চালু এবং রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করা।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপকমিশনার গাজিউর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বিমান অবতরণের স্থান, ভিআইপিদের যাতায়াতের পথ, ধর্মসভা মন্দির, সার্কিট হাউস ও জনসভাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রাজশাহীতে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে সামরিক বাহিনীর বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুরে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পরে মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভা শেষে বিকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জে এম সেন হলের রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতে ঢাকায় ফিরবেন।