কালবেলা · টেক
পূজায় আনসারের প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত নিরাপত্তায় ১৩১ ঘটনায় ব্যবস্থা
২২/১০/২০২৬

শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে সারা দেশে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ সময় পূজাকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ১৩১টি ঘটনায় প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা প্রতিরোধ, বিবাদ মীমাংসা, অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধ ও মাদকসংক্রান্ত ঘটনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আনসার সদর দপ্তরের সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাহিনীটির তথ্যানুযায়ী, এ বছর সারা দেশের ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিমে ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়।
আনসারের তথ্য বলছে, দুর্গাপূজাকেন্দ্রিক ঘটনায় প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা ও ভাঙচুর প্রতিরোধে ২০টি, বিবাদমান সমস্যা সমাধানে ৩৬টি এবং অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধে দুটি ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ছাড়া মাদকসংক্রান্ত ১৩টি ঘটনার তথ্য রয়েছে। পৃথক ২৪টি ঘটনায় ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৫টি শিশু। চুরির ঘটনায় আটক করা হয়েছে ছয়জনকে। এ ছাড়া ১৫টি ঘটনায় মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার এবং বিবিধ সমস্যা-সংক্রান্ত আরও নয়টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হয়। অ্যাপটির মাধ্যমে ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত পূজামণ্ডপে কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য জানান। এর ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয় বলে জানিয়েছে বাহিনী।
এ ছাড়া সদস্য নির্বাচন ও মোতায়েনের ক্ষেত্রে এভিএমআইএস ও এসটিডিএমএস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। বাহিনীর দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, পরিকল্পিত জনবল মোতায়েন এবং তাৎক্ষণিক সাড়াদানের সমন্বয়ে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা কার্যক্রম ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পূজা-পরবর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।
এদিকে পূজার দায়িত্ব পালনকালে চারজন আনসার-ভিডিপি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও অসুস্থ হয়েছেন ১৭ জন সদস্য।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। ২০ অক্টোবর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি জনসেবা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাহিনীটির মতে, পূজা উদযাপন কমিটি, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নির্বাচনসহ বড় জনসমাগমপূর্ণ আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কাজে লাগবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗