Published on
:
2 min read
এই সময়, মেদিনীপুর: শুধু শহর কলকাতা নয়, দুর্ঘটনা এড়িয়ে নিরাপদে প্রতিমা বিসর্জনের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু জেলাতেও। মেদিনীপুর শহরের কংসাবতী নদীর গান্ধীঘাট এবং ডিএভি ঘাটে নয়া পদ্ধতিতে এ বার প্রতিমা বিসর্জন হলো বিশেষ ট্রলি ও হাইড্রোলিক ব্যবস্থায়। নতুন পদ্ধতিতে প্রতিমা জলে নামানোর কাজ যেমন সহজ হচ্ছে, তেমনই এই উপায়ে ভিড়ের মধ্যে দুর্ঘটনা কমানোরও চেষ্টায় প্রশাসন।
কলকাতার চোরবাগানে প্রতিমা দর্শনে দুর্ঘটনার পরে নিরাপত্তার বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মেদিনীপুরের দুই গুরুত্বপূর্ণ বিসর্জন ঘাটে পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে সরেজমিন একাধিকবার পরিদর্শন করেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা এবং মেদিনীপুরের পুরপ্রধান সৌমেন খান-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা। বিসর্জন যাতে নির্বিঘ্নে হয়, সে জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। বুধবার মেদিনীপুর রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নতুন পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়। বিশেষ ট্রলির উপরে প্রতিমা স্থাপন করে হাইড্রোলিক পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে জলে নামানো হচ্ছে। এতে প্রতিমা বিসর্জনের কাজে গতি আসছে এবং কর্মীদের শারীরিক পরিশ্রমও কমছে। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ঘাটে ছিল ব্যস্ততা। বিসর্জন দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। শুধু প্রতিমা বিসর্জনই নয়, নদী পরিষ্কার রাখার দিকেও দেওয়া হচ্ছে বিশেষ নজর। বিসর্জনের পরে নদী থেকে খড়কুটো, কাঠামো ও অন্যান্য আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে নামছেন পুরসভার নিযুক্ত কর্মীরা। পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যদের নজরদারি এবং উদ্ধারকাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুরপ্রধান বলেন, ‘প্রত্যেকবারই সাবধানে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়। এ বার সরকারি নির্দেশ মেনে ভাসানে ক্রেন বা জেসিবি ব্যবহার না করে হাইড্রোলিক ট্রলির সাহায্যে প্রতিমা জলে ফেলা হচ্ছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা পুরো বিষয়টির উফরে নজরদারি করছেন। কোনওরকম দুর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য সর্বদা নজরদারি চলছে। আমরা শহরবাসীর কাছে আবেদন করেছি, প্রতিমা বিসর্জন উপভোগ করুন। কিন্তু কোনও হুড়োহুড়ি নয়। দূর থেকে দাঁড়িয়ে বিসর্জন উপভোগ করুন। জেলা পুলিশ ও প্রশাসন সহযগিতা করছে। মেদিনীপুরের মানুষও প্রতিমা বিসর্জনে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।’
বিসর্জন দেখতে আসা মেদিনীপুরের বাসিন্দা সাগরিকা মাজি বলেন, ‘আগে প্রতিমা বিসর্জনের সময়ে বড় যন্ত্রের ব্যবহার ও ভিড় দেখে ভয় লাগত। এ বার নতুন পদ্ধতিতে প্রতিমা জলে ফেলা হচ্ছে। সাধারণ মানুষও নিশ্চিন্তে বিসর্জন দেখতে পারছেন।’ পুজোর উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, বিসর্জন পুজোর শেষ পর্ব। সেই সময়ে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সুষ্ঠভাবে বিসর্জন সম্পন্ন হয়––সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক ব্যবস্থা সেই কাজে কতটা নিরাপদে শেষ হয় সেটাই দেখার।’
