Published on
:
2 min read
প্রায় দুই দশক পার হয়ে গেলেও ভারতীয় ক্রিকেটের ড্রেসিংরুমে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি গ্রেগ চ্যাপেলের রেখে যাওয়া ক্ষতের দাগ আজও মুছে যায়নি। ২০০৫ সালের জুন মাসে যখন চ্যাপেল ভারতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা ছিল। সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণদের মতো কিংবদন্তিদের নিয়ে গড়া ব্যাটিং লাইন-আপের সঙ্গে চ্যাপেলের ক্রিকেট মস্তিষ্ক যুক্ত হয়ে অপ্রতিরোধ্য একটা দল তৈরি করবে—এমনটাই আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তার বদলে ভারতীয় দলে দেখা গিয়েছিল ক্ষমতার অপব্যবহার আর ড্রেসিংরুমে রাজনীতি। এবার সেই চ্যাপেল জমানা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অফ-স্পিনার হরভজন সিং।
‘চ্যাপেলকে হেড কোচ করা অন্যতম বড় ভুল’
এক পডকাস্টে গিয়ে হরভজন সিং সেই সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘চ্যাপেল যেভাবে দাদার (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) সঙ্গে আচরণ করেছিলেন এবং ভারতীয় দলের সঙ্গে যা করেছিলেন, তা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার ও খারাপ অধ্যায়। তাঁকে হেড কোচ হিসেবে নিয়ে আসা ভারতীয় ক্রিকেট ম্যানেজমেন্টের নেওয়া সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্তগুলির অন্যতম। ও ড্রেসিংরুমে ব্রিটিশদের সেই কুখ্যাত ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি চালু করেছিল—খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে বিরোধ লাগিয়ে দিয়ে নিজে রাজার মতো শাসন করত।’
সৌরভের হাত ধরে তৈরি হওয়া দলের ভাঙন প্রসঙ্গে ভাজ্জি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘ও গোটা ভারতীয় দলটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছিল। ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে যে দলের প্রতিটি খেলোয়াড় পরিবারের মতো খেলত, একে অপরের জন্য লড়াই করত, সেই ড্রেসিংরুমের তারকারাই চ্যাপেল আসার পর পরস্পরের সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছিল। আমাদের দলটা বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী ও ঘনিষ্ঠ দল ছিল, আর চ্যাপেল আক্ষরিক অর্থেই সেই বন্ধনটাকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলেছিল।’
অস্ট্রেলিয়াকে সুবিধা করে দিতেই চ্যাপেলের এই পদক্ষেপ?
এরপর এক বিস্ফোরক দাবি করেন হরভজন। চ্যাপেল কি তবে নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়াকে সুবিধা করে দিতেই ভারতীয় দলকে দুর্বল করেছিলেন? হরভজনের যুক্তি, ‘আমার মতে, চ্যাপেলের মূল উদ্দেশ্য হয়তো একদম অন্য ছিল। সেই জমানায় স্টিভ ও বা রিকি পন্টিংয়ের অশ্বমেধের ঘোড়া ছোটানো অস্ট্রেলিয়াকে নিয়মিত চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা শুধু ভারতেরই ছিল। এটা কি অসম্ভব যে চ্যাপেল ইচ্ছে করেই আমাদের ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিলেন যাতে মাঠে দল হিসেবে আমরা একজোট হয়ে লড়াই করতে না পারি? আর যার ফলে আমরা ম্যাচ হারতে শুরু করি?’
— Raya (@Raya1ry) October 21, 2026Harbhajan Singh reveals on Prakhar's podcast Greg Chappell’s shocking conspiracy that destroyed Team India 💀
He revealed how Chappell divided the team and destroyed it's unity, as India was the only team that could have beaten Australia back then.
Bro really played a dirty… pic.twitter.com/PpmEJmBTfD
হরভজনের এই দাবির পক্ষে যুক্তিও রয়েছে। সেটা ২০০৭ সালের ODI বিশ্বকাপ। ২০০৩ সালে যারা বিশ্বমঞ্চে ফাইনালে খেলেছিল, সেই দলটাই ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে আয়োজিত ২০০৭ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডেই বাংলাদেশ এবং পরে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়। তখন প্রকট হয়েছিল দলের ভেতরের রাজনীতি ও প্লেয়ারদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব। সেটাই এ বার ফের তুলে ধরলেন হরভজন সিং।
