ছবির ক্যাপশন: .
বিশেষ প্রতিনিধি, অনিরুদ্ধ
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনের সংসদ সদস্য এবং ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। গত ১৮ জুলাই শনিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এলাকায় তাঁর লালিত বাহিনীর মাধ্যমে জুয়া ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্ম অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে শোকজ নোটিশ জারি করেছে বিএনপি। এছাড়া ২০২৪ সালে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছিল ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। তিনি ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। দলের মনোনয়নে এত বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পরেও তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শোকজ জারি হওয়া এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শোকজ জারির পরেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ভালুকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও বাচ্চুর আশীর্বাদপুষ্ট বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় জুয়া ব্যবসা চলমান রয়েছে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। লোকমুখে এমনও শোনা যাচ্ছে যে অর্থের বিনিময়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যদিও এর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শোকজ নোটিশের বিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন যে শোকজের ফলাফল আদৌ কী হবে। তারা বলছেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় হেডলাইন হওয়ার পরেও যদি অপকর্ম না থামে এবং শোকজের জবাব দিতে না হয়, তাহলে দলীয় শৃঙ্খলার কোনো অর্থ থাকে না। ভালুকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এবং শোকজের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।
